
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘বিবেক দিয়ে বিচার করুন, কে দুর্নীতিমুক্ত, কে মানুষের ক্ষতি করেনি, কে সন্ত্রাস দমন করেছে। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের হাতে আর ক্ষমতা দেওয়া যাবে না। ভোটের আমানত সৎ মানুষের হাতেই তুলে দিন।’
আজ শনিবার সকালে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া–ফুলতলা) আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নে জামায়াত আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফ্যাসিস্ট আর ক্ষমতায় ছিল না। তাহলে এরপর যারা চাঁদাবাজি করল, ঘের দখল করল, বাজারে বাদাম বিক্রেতার কাছ থেকেও চাঁদা তুলল, তারা কোন দলের লোক? চাঁদা না দেওয়ার কারণে মানুষকে পাথর মেরে হত্যার ঘটনা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, এ ধরনের শক্তির হাতে ক্ষমতা গেলে কি কোনো মানুষের শান্তি নিশ্চিত হতে পারে?
স্বাধীনতার ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লাঙ্গল, নৌকা, ধানের শীষ সব প্রতীকের দলই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, এমনকি সামরিক শাসনও এসেছে। কিন্তু কোনো দলের কোনো নেতা বা সরকারপ্রধান বুক চিতিয়ে বলতে পারেননি যে তাঁরা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জুলুমমুক্ত শাসন দিয়েছেন।
সংসদ সদস্য থাকার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে আমি পাঁচ বছর এখানে এমপি ছিলাম। তখন ডুমুরিয়া ছিল ভয়াবহ সন্ত্রাসকবলিত। সন্ধ্যার আগে মানুষ ঘরে ঢুকে পড়ত। প্রতিদিন লাশ, গুম, হাত-পা কাটা—এই আতঙ্কে মানুষ রাত কাটাত। নির্বাচনের আগে দেওয়া আমার দুটি অঙ্গীকারের একটি ছিল সন্ত্রাস দমন, অন্যটি ছিল শতভাগ স্বচ্ছ উন্নয়ন।’ তিনি দাবি করেন, সংসদ সদস্য থাকাকালে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করেছেন এবং কোনো কাজের বিনিময়ে কারও কাছ থেকে এক টাকাও নেননি।
বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপট নিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আবারও দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় ফেরানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এমপি বানাবে একজনকে, তিনি থাকবেন ঢাকা বা লন্ডনে। আর এলাকায় তাঁর সাগরেদরা চাঁদাবাজি, মাস্তানি, ঘের দখল চালাবে।
উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আবু ইউসুফ মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমির গাজী সাইফুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি দেব প্রসাদ মন্ডল, আটলিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মতিয়ার রহমান, সেক্রেটারি হাফেজ মঈন উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী গবেষণা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, ডুমুরিয়া পশ্চিম ছাত্রশিবির সভাপতি হামিদুল হাসান প্রমুখ।