সুন্দরবন উপকূলে ধরা পড়া ১৫৫ কেজি ওজনের কোরাল চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি বাজারে আনা হয় বিক্রির জন্য
সুন্দরবন উপকূলে ধরা পড়া ১৫৫ কেজি ওজনের কোরাল চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি বাজারে আনা হয় বিক্রির জন্য

চট্টগ্রামের বাজারে দেড় শ কেজির কোরাল, দাম প্রায় আড়াই লাখ

বরফের স্তূপের ওপর বিশাল এক সামুদ্রিক মাছ। পাশ দিয়ে যাওয়া প্রায় সবাই থেমে একবার তাকাচ্ছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার জানতে চাইছেন—কত ওজন, কত দাম? চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি বাজারে এমন কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ১৫৫ কেজি ওজনের একটি কোরাল মাছ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মাছটি নিয়ে আসেন বাজারের মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

আজ বিকেলে বাজারে গিয়ে পাওয়া গেল তাঁকে। আনোয়ার হোসেন জানান, মাছটি সুন্দরবন উপকূলসংলগ্ন সাগরে একটি ট্রলারে ধরা পড়ে। সেখান থেকে সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে আনা হয়েছে। ২০১৯ সালের পর এত বড় কোরাল আর পাননি। চার থেকে পাঁচ বছর পর আবার এমন একটি মাছ বাজারে তুলতে পেরেছেন। আগ্রহী ক্রেতাদের আগাম বুকিং দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বড় আকৃতির কোরাল খুব কমই বাজারে আসে। তাই ১৫৫ কেজি ওজনের এ মাছ দেখতে বাজারে ভিড় করছেন অনেকেই। মাছটি শনিবার সন্ধ্যায় কেটে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন আনোয়ার হোসেন। প্রতি কেজির দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। সে হিসাবে ১৫৫ কেজির পুরো মাছটির দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা।

জেলা মৎস্য দপ্তর জানায়, মাছটির শরীর চ্যাপ্টা ও তুলনামূলক গোলাকার। পিঠের ও পেছনের পাখনা লেজের দিকে অনেকটা বিস্তৃত হওয়ায় দূর থেকে এটিকে তিনটি লেজযুক্ত মাছ মনে হয়। মাথা ও মুখ তুলনামূলক ছোট, আর গায়ে বাদামি রঙের ছোপ রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্য কই-কোরালের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে নিশ্চিত না হয়ে বৈজ্ঞানিক নাম বলা যাবে না।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোরাল বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছের মধ্যে অন্যতম মূল্যবান প্রজাতি। কোরালের অনেক জাত রয়েছে। ছবি দেখে মনে হয়েছে এটি কোরাল শ্রেণির মাছ। অনেকে একে কই-কোরালও বলেন। সুন্দরবন এলাকায় ধরা পড়েছে বলে শুনেছি। এখন মাছটি চট্টগ্রামের বাজারে এসেছে।’