নোয়াখালী জেলার মানচিত্র
নোয়াখালী জেলার মানচিত্র

নোয়াখালী

মিষ্টি বিতরণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ভাঙচুর-বিস্ফোরণ

নোয়াখালীতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে দলের দুটি পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বেশ কটি ককটেল বিস্ফোরণও হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ভাঙচুর করা হয়েছে দুটি দোকান ও একটি মোটরসাইকেল। গতকাল রোববার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের খলিফার হাটবাজারে এসব ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের চারজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মোহাম্মদ ইউসুফ (৩৫) নামের একজনকে রাতে জেলা সদরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দাদপুর ইউনিয়নের খলিফার হাট বাজারে মিষ্টি বিতরণ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মিষ্টি বিতরণ নিয়ে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নুরুল আমিন ও সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সমর্থকেরা প্রথমে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হন। পরে দুটি পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে এক পক্ষের নেতা-কর্মীদের অন্য পক্ষকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা যায়। উভয় পক্ষের সমর্থকেরা বেশ কিছু ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটান। এতে বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে জেলা শহর মাইজদীর সেনা ক্যাম্পের একটি দল ঘটনাস্থলে আসেন। এ ছাড়া উপস্থিত হয় সুধারাম থানা পুলিশের একটি দল। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

পাল্টাপাল্টি হামলা ও ধাওয়া চলাকালে বাজারের দুটি দোকানে ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে জেলা সদরের হাসপাতালে ভর্তি করা মোহাম্মদ ইউসুফ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নুরুল আমিনের অনুসারী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নুরুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, আনোয়ার হোসেনের সমর্থকেরা তাঁর পক্ষের নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়েছেন। তবে সংঘর্ষের বিষয়ে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, খলিফার হাট বাজারে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। এটি খুবই সামান্য ঘটনা। স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওই ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে বিএনপির দলীয় রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মিষ্টি বিতরণ করা নিয়ে খলিফার হাট বাজারে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাঁরা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলায় জড়িয়ে পড়েন। এতে ২-৩টি দোকান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণের কোনো আলামত ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।