
ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে মা ও ছেলেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর আগে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁদের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। আজ শুক্রবার সকালে ভালুকার আওলাতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের আওলাতলী মধ্যপাড়া (পুরাতন) জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ একত্র হন। পরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে আওলাতলী গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ মিয়া (২৫) ও তাঁর মা পারভীন আক্তারকে (৪৫) আটক করে ভালুকা মডেল থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটক পারভেজ মিয়ার বাবার নাম জামাল উদ্দিন। তাঁর বিরুদ্ধে ভালুকা মডেল থানায় মাদকের পাঁচটি মামলা রয়েছে। এক মাস আগে মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার সকালে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর অনেক মানুষ জামাল উদ্দিনের বাড়ির সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে পারভেজ ও তাঁর মাকে আটক করা হয়। এ সময় বাড়ির অন্য সদস্যরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ এসে মা-ছেলেকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়িটিতে ভাঙচুর চালায়। পরে সেখানে আগুন ধরিয়ে দিলে তিনটি আধা পাকা বসতঘর, চারটি টিনশেড ঘর, একটি রান্নাঘর ও বাড়ির পাশে রাখা একটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উদ্ধার হওয়া মাদকের একটি অংশও আগুনে পুড়ে গেছে।
আওলাতলী মধ্যপাড়া (পুরাতন) জামে মসজিদের ইমাম শফিকুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে মাদক নির্মূলে সরকারের যে উদ্যোগ রয়েছে, তারই অংশ হিসেবে এলাকাবাসী একত্র হয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার কারণে পরিবারটির ওপর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ করেছেন হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন। তিনি বলেন, ছোট ছোট ছেলে তাঁদের কারণে মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছিল। একই অভিযোগ করেন হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান।
আটক মা ও ছেলের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা আছে কি না, সে বিষয়টি এখনো যাচাই করা হয়নি বলে জানান ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। পরিবারটি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ক্ষুব্ধ জনতা বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। থানায় নতুন মামলার প্রস্তুতি চলছে।