
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় সরকারি আবাসন প্রকল্পের মালামাল বিক্রি করার অভিযোগে সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. মনির শিকদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে ওই ইউনিয়নের সহকারী তহসিলদার মো. রিয়াজ হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করেন।
মনির শিকদার বেতাগী সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। এর আগে ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুরা গ্রামের আবাসন প্রকল্প থেকে কয়েক দফায় পুরোনো টিনের চাল ও লোহার অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পাশের বাকেরগঞ্জ উপজেলা থেকে গতকাল সন্ধ্যায় চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় সদর ইউনিয়নের সহকারী তহসিলদার বাদী হয়ে ইউপি সদস্য মনিরসহ ছয়জনের নামে থানায় মামলা করেছেন। রাতেই একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে ইউপি সদস্য পলাতক।
প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের জন্য বেতাগী উপজেলার লক্ষ্মীপুরা গ্রামে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় ওই আবাসন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরে সেখানে ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর তৈরির উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। ওই জায়গায় পুরোনো টিনের চাল ও লোহার অ্যাঙ্গেল ফেলে রাখা হয়েছিল। ইউপি সদস্য মনির শিকদারের বিরুদ্ধে ওই মালামাল গোপনে কয়েক দফায় বিক্রির অভিযোগ ওঠে। গতকাল সন্ধ্যায় পিকআপে করে ওই মালামাল বাকেরগঞ্জের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার সময় মনিরকে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তাঁরা বিষয়টি বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানান। ইউএনওর নির্দেশে পুলিশ চুরির মালামাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
সদর ইউনিয়নের ঝোপখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. রুবেল মৃধা বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় ইউপি সদস্য মনির শিকদার আবাসনের মালামাল পিকআপ ভ্যানে তুলে বিক্রির জন্য বাকেরগঞ্জের একটি ভাঙারি দোকানে নিয়ে যান। তাঁরা বিষয়টি ইউএনওকে জানান। ইউপি সদস্য মনির আগেও কয়েক দফায় আবাসনের মালামাল বিক্রি করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. মনির শিকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশের সহায়তায় মালামালগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সরকারি স্থাপনা কোনো ব্যক্তির আত্মসাৎ করার সুযোগ নেই।