শিক্ষকের স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ভবনে
শিক্ষকের স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ভবনে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকের স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে এক বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের পদাবনতি ও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক সুজন সেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ভবনে ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পছন্দের শিক্ষার্থীকে সুবিধা দেওয়া, অর্থ কেলেঙ্কারি, অযোগ্যতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুজন সেনকে বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও বিভাগের সভাপতির কাছে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ সংযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দেন তাঁরা।

পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর বিভাগের জরুরি একাডেমিক সভায় এসব অভিযোগের তদন্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সুজন সেনকে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত শেষে কমিটি তাঁর আচরণকে নৈতিক স্খলন হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয়।

পরে সুজন সেনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাবেক সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সবশেষ সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সুজন সেনকে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমন করা হয়েছে। এই পাঁচ বছর তিনি কোনো ইনক্রিমেন্ট পাবেন না। তবে এই শাস্তিকে ‘দায়সারা ও প্রহসনমূলক’ অ্যাখ্যা দিয়ে গত ১৮ আগস্ট প্রশাসনকে স্মারকলিপি ও আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানায় আজ ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আছিয়া খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত সিন্ডিকেটে প্রশাসন তাঁকে (সুজন সেন) পদাবনতি দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য অব্যাহতি দিয়েছে। এটি নামমাত্র শাস্তি। এর ফলে তিনি পাঁচ বছর কর্মস্থলে না থেকেও বেতন-ভাতা পাবেন।’

আছিয়া খাতুন আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুযায়ী কোনো শিক্ষকের নৈতিক স্খলন ঘটলে তাঁকে চাকরিচ্যুত করার নিয়ম রয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনেও সুজন সেনের আচরণকে নৈতিক স্খলন হিসেবে উল্লেখ করে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু সিন্ডিকেটে তা না করে শুধু পদাবনতি ও পাঁচ বছরের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনকে তাঁর স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা দিতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন তাঁরা।

একই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সারোয়ার জাহান বলেন, ‘একজন দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষকের শাস্তি এত কম কীভাবে হয়, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। আমাদের দুটি দাবি—তাঁর বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘এটি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াটা দৃষ্টিকটু। তাঁদের যেকোনো দাবিতে তাঁরা আন্দোলন করতে পারেন, তবে সেটি যেন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে না হয়। আমরা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করব।’