শহীদ আহসান হাবিব
শহীদ আহসান হাবিব

শহীদ আহসান জুলাই যোদ্ধা নন—দাবি বিএনপি নেতার, জামায়াত নেতা বললেন, ‘সারজিসও ছাত্রলীগ করতেন’

কক্সবাজারের চকরিয়ায় শহীদ আহসান হাবিবকে ‘জুলাই যোদ্ধা নন’ দাবি করে তাঁর নাম সরকারি গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক। তাঁর দাবি, জুলাই আন্দোলনে আহসান হাবিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর পরিবার আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়েছিল।

এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চকরিয়া–পেকুয়া আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক। তিনি বলেছেন, আহসান হাবিব জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের গুলিতে শহীদ হয়েছেন। আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি এতে সম্পৃক্ত ছিলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘একজন শহীদের ব্যাপারে অযাচিত মন্তব্য আমাদের আহত করে।’

শহীদ আহসান হাবিবকে জুলাই যোদ্ধা মানতে নারাজ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক। গতকাল বিকেলে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন

গতকাল বুধবার বিকেলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আহসান হাবিবকে নিয়ে মন্তব্য করেন এনামুল হক। তিনি বলেন, ‘কে জুলাই যোদ্ধা? আমি–আপনি সেই জুলাই যোদ্ধা। যাঁরা জুলাই যুদ্ধ করতে গিয়ে বুকের রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন, হাসিনাকে বিমানে তুলে দিয়েছেন, তারাই যোদ্ধা।’

এরপর আহসান হাবিবের নাম উল্লেখ করে এনামুল হক বলেন, চকরিয়ার এক জুলাই যোদ্ধার গেজেট হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। কিন্তু তিনি (আহসান) জুলাই যোদ্ধাদের মারতে গিয়েছিলেন। তাই তাঁর নাম গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।

এনামুল হক আরও বলেন, ‘আহসান হাবিব মারা যাওয়ার পর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হেলালের নেতৃত্বে তাঁর বাবা, চাচা ও মা গণভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁদের “আবেগঘন কোলাকুলি” হয়েছিল। ওই দিন শেখ হাসিনা সংসদের তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে আহসান হাবিবের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে দেওয়া আহসান হাবিবের ফেসবুক পোস্ট তুলে ধরেন জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল ফারুক

এনামুল হকের এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে আহসান হাবিবকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক। পোস্টে তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় আহসান হাবিবের দেওয়া কয়েকটি পোস্টের স্ক্রিনশট যুক্ত করেন।

আবদুল্লাহ আল ফারুক লিখেছেন, ‘আহসান হাবিব জুলাই আন্দোলনে কক্সবাজারের রাজপথে নিহত শহীদ। জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই সে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় সে নিয়মিত পোস্ট করেছে। সারজিস আলমও একসময় ছাত্রলীগ করতেন। কিন্তু ফ্যাসিবাদের পতনে সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন শহীদের ব্যাপারে অযাচিত মন্তব্য আমাদের আহত করে। আহসান হাবিব, ওয়াসিম আকরাম আমাদের প্রেরণা, চকরিয়া–পেকুয়ার গর্বের ধন।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কক্সবাজার শহরে গুলিতে নিহত হন আহসান হাবিব। তাঁর মৃত্যুর পর গণভবনে ডেকে তাঁর পরিবারের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৫ সালে আহসান হাবিবের কবর জিয়ারত করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।