
মাদারীপুরের শিবচরে প্রাইভেট কারের ভাড়া বেশি চাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক পরিবহনশ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে শিবচরের ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচ্চর গোলচত্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আরমান সরদার (৩৫) শিবচরের সিকদারকান্দি এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজমল হুদা চৌধুরী ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে শিবচরের পাঁচ্চর গোলচত্বরে যান। সেখানে তিনি শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) শাজাহান মোল্লার ছেলে ফারুক মোল্লার ভাড়া গাড়ির অফিসে গিয়ে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া নিতে চান। ভাড়া বেশি চাওয়ায় চালকের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে আজমলের পক্ষের লোকজন গোলচত্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অফিসটি ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে আজমলের পক্ষের জিয়াউল হক (৪৫) নামের এক ব্যক্তি গুলি ছুড়লে আরমান গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান এবং শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন সেরনিয়াবাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) শাজাহান মোল্লা বলেন, ‘আজমল হুদার লোকজন আমার ছেলের অফিস ভাঙচুর করেছে। তাদের লোক আমাদের এক শ্রমিককে গুলি করেছে। তাদের এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মাদবরেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজমল হুদা চৌধুরী বলেন, ‘চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই এই ঝামেলা হয়েছে। এখানে কোনো চাঁদাবাজ থাকবে না। কয়েকজন চাঁদাবাজ আমার সঙ্গে আজেবাজে ব্যবহার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা সরতে বাধ্য হইছে। এখানে আমার কোনো লোক সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেনি।’
শিবচর থানার ওসি মো. আমির হোসেন সেরনিয়াবাত বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাত থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।