
সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) স্বীকৃত লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট, চালকদের প্রশিক্ষণসহ ৯ দফা দাবিতে বরিশালে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ‘রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’। আজ রোববার দুপুরে নগরের সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বরাবর একটি স্মারকলিপি দেয়।
৯ দফা দাবিগুলো হলো—বিআরটিএ স্বীকৃত লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট, চালকদের প্রশিক্ষণ, মহাসড়কে সাইড লেন চালু, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ঘোষিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ বন্ধ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পার্কিং ও চার্জিং স্টেশন চালু, পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি সংযোজনের জন্য সরকারি ভর্তুকি এবং ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত স্থানীয় সরকার আইন (সিটি করপোরেশন আইন) সংশোধনের ৪৫ ধারা বাতিল।
সংগঠনটির বরিশাল জেলা শাখার সংগঠক দুলাল মল্লিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী। আরও বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক বেল্লাল গাজী, দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, বরিশাল রিকশা-ভ্যানচালক শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা শহিদুল ইসলাম, মহসিন মীর, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল শেখ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক রমজান আকন প্রমুখ।
সমাবেশে বাসদের জেলা শাখার সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী বলেন, দেশে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য বিআরটিএর মাধ্যমে নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ, রুট পারমিট ও সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবিতে ১৩ বছর ধরে আন্দোলন চলছে। জীবন-জীবিকার এই সংগ্রামের পাশাপাশি রিকশাচালকেরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে রিকশাশ্রমিকসহ বহু মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে।
মনীষা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেও এই বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন না করে উল্টো ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় একটি অধ্যাদেশ জারি করে। আন্দোলনের কারণে সিলেট ও চট্টগ্রামে বাসদসহ বামপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ কোনো নীতিগত সহায়তা ছাড়া আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে টিকে আছেন। তাই তিনি সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচিতে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নীতিমালা চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে স্টিকার দিলেই এসব যানবাহন নিরাপদ হবে না। সে জন্য প্রয়োজন বিআরটিএ স্বীকৃত লাইসেন্স, যান্ত্রিক মান যাচাই ও ট্রাফিক আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ। বিআরটিএ ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৪ সালে খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করেছিল। এর একটি কার্যকর হলেও আরেকটি এখনো অপেক্ষমাণ। ২০২৫ সালে ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশোধনী ও সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে তেল-গ্যাসের মজুত কমে গেলে বৈদ্যুতিক যানবাহনই প্রধান ভরসা হয়ে উঠবে উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনকে নীতিমালার আওতায় আনা জরুরি।