ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা চলছে। দ্বিতীয় দিনে আজ বুধবার সেবা নিতে এসেছেন অনেকে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা চলছে। দ্বিতীয় দিনে আজ বুধবার সেবা নিতে এসেছেন অনেকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভূমিসেবা মেলা : ‘মেলায় আসলাম, দাঁড়ালাম এবং কাজ হয়ে গেল’

মো. আমিনুজ্জামান ভূমিসেবা মেলায় গেছেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ৩০ বছর তাঁর বাড়ির খাজনা পরিশোধ করা হয়নি। বকেয়া ৭ হাজার ৬৩৩ টাকা। তিনি মেলার স্টলে ভূমিসেবা অনলাইনে গ্রাহক আইডি খোলেন। পরিশোধ করেন বাড়ির খাজনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা চলছে। ‘জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ স্লোগান নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ।

মেলায় দ্রুত ও সহজে বাড়ির খাজনা পরিশোধ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা শহরের ভাদুঘরের বাসিন্দা আমিনুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগে বাবা বাড়ির খাজনা পরিশোধ করতেন। কিন্তু পারিবারিক ঝামেলার কারণে অনেক বছর ধরে বাড়ির খাজনা পরিশোধ করা হয়নি। আজ বাড়ির খাজনা পরিশোধ করতে উপজেলা ভূমি সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে যাই। সেখান থেকে মেলায় পাঠানো হয়। এসে জানতে পারি ৩০ বছর ধরে বাড়ির খাজনা পরিশোধ করা হয়নি এবং সেটি জমে ৭ হাজার ৬৩৩ টাকা হয়েছে। মেলায় কর্মরত ব্যক্তিদের ব্যবহারে আমি সন্তুষ্ট। অনেক গ্রাহক আসছেন। এখানে দ্রুত সেবা মিলছে।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মেলায় ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের সেবা দিতে এক ছাদের নিচে ছয়টি স্টল খোলা হয়েছে। এসব স্টলে ভিটেবাড়ির খাজনা পরিশোধ, নামজারির আবেদন, ভূমিসেবাসংক্রান্ত নাগরিকের আইডি খোলা, যেখান থেকে ম্যাপের ও খতিয়ানের জন্য আবেদন করা যায় এবং মৌজা, দাগ খতিয়ান দিয়ে রেকর্ডসহ ভূমি যাচাই করা যায়। সার্ভে খতিয়ান সংগ্রহ ও বাৎসরিক বন্দোবস্ত ফি প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে তাৎক্ষণিক দ্রুততম সময়ে মিলছে সেবা। দ্রুত সেবা দেওয়া ও ঘরে বসেই গ্রাহকেরা যেন সেবা নিতে পারেন, সে বিষয়ে সচেতন করতেই ভূমিসেবা মেলার আয়োজন। ঘরে বসে অনলাইনে ভূমিসেবা অ্যাপসের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভূমিসংক্রান্ত বিষয়ে সেবা নেওয়ার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করাই এই মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য।

মেলায় পৌর ভূমি কর্মকর্তা মফিজুল কবীর ও সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রত সহকারী মো. আলামিন বলেন, ভূমি অটোমেশন প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিসেবার সবকিছু এখন অনলাইনভিত্তিক হয়ে গেছে। মিউটেশন, ই-মিউটেশন, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, করণিক ভুল সংশোধন, ই-পর্চা ইত্যাদি সেবা অনলাইনভিত্তিক হয়ে গেছে। কিন্তু সেবাগুলো মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেনি। মেলার উদ্দেশ্যে ভূমিসেবার বিষয়ে মানুষকে মানুষকে সচেতন করা।

শহরের ছয়বাড়িয়া গ্রামের খোকন মিয়া বাড়ির ৩ বছরের খাজনা ২৫০ টাকা পরিশোধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মেলায় আসলাম, দাঁড়ালাম এবং কাজ হয়ে গেল। কিন্তু উপজেলা ভূমি অফিসে গেলে নায়েব থাকেন না, সহকারী থাকেন না, অপেক্ষা করতে হয়। তাঁদের নানা মামলা থাকে। কিন্তু এখানে দ্রুত কাজ হয়েছে।’

কলেজপাড়ার মুহাম্মদ নূর-ই আলম বলেন, ‘বাড়ির দলিলপত্র নিয়ে মেলায় এসে জানতে পারলাম ২০০৯ সালের পর আর খাজনা পরিশোধ করা হয়নি। দেরি না করে ভূমিসেবা অ্যাপসের মাধ্যমে গ্রাহক আইডি খুলে বাড়ির খাজনা পরিশোধ করেছি।’

মেলায় ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের সেবা দিতে এক ছাদের নিচে ছয়টি স্টল খোলা হয়েছে। আজ বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউসে

মেলায় ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুসকান ইসলাম বলেন, ‘জানতে এসেছিলেন যে দাদার ওয়ারিশ বাবা, বাবার ওয়ারিশ আমরা। এখন আমরা বাবার ওয়ারিশ সূত্রে জায়গার মালিকানা পাব কি না। মেলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভালোভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছেন।’

সরেজমিন দেখা যায়, মেলায় তথ্য পরামর্শ ও অভিযোগ, ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র, রেকর্ড রুম ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখা, রেভিনিউ মুন্সিখানা ও ভিপি শাখা, গণশুনানি ও উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস নিয়ে স্টল খোলা হয়েছে। তথ্য পরামর্শ ও অভিযোগ এবং ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র স্টলে সবচেয়ে বেশি ভিড়। গত দুই দিন রেকর্ড রুম ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে ৫০টি খতিয়ান সরবরাহ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘ভূমিসেবা মেলার উদ্দেশ্য হলো কম খরচে হয়রানি ছাড়া ঘরে বসেই যেন মানুষ ভূমিসেবা পান। ভূমি কার্যালয়গুলোতেও মানুষ হয়রানি ছাড়াই সেবা পাবেন। হয়রানির শিকার হলে যে কেউ আমার কাছে অভিযোগ করতে পারবেন।’