যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে প্রায় ৯ কিলোমিটার রেলপথ মহাসড়ক ঘেঁষে। মহাসড়কে যানবাহন বিকল হলে যাত্রীরা রেলপথে গিয়ে বসেন ও ঘোরাঘুরি করেন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার বিকেলে
যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে প্রায় ৯ কিলোমিটার রেলপথ মহাসড়ক ঘেঁষে। মহাসড়কে যানবাহন বিকল হলে যাত্রীরা রেলপথে গিয়ে বসেন ও ঘোরাঘুরি করেন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার বিকেলে

টাঙ্গাইলে ট্রেন দুর্ঘটনা

মহাসড়কের পাশেই রেলপথ, ট্রেন এলেও বোঝা যায় না

মহাসড়কের পাশেই রেলপথ। ব্যস্ত সড়কটিতে রাত–দিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। গাড়ির শব্দে ট্রেনের আওয়াজ শোনা যায় না। এ জন্য ট্রেনে কাটা পড়ে প্রতি মাসেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের রেলপথে। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার এ রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, বাস থেকে নেমে যাত্রীদের কেউ রেলপথে বসে ছিলেন, কেউ হাঁটাহাঁটি করছিলেন। ট্রেন একেবারে কাছে আসার পরও তাঁরা বুঝতে পারেননি।

নিহত পাঁচজনের সঙ্গে থাকা নূর ইসলাম জানান, তিনিসহ ওই পাঁচজন রেলপথে ছিলেন। যখন ট্রেন আসে তার কিছুক্ষণ আগেই রেলপথে থেকে নেমে আসেন। তাঁর চোখের সামনেই পাঁচজন কাটা পড়েন। তিনি বলেন, মহাসড়কে প্রচুর যানবাহনের চাপ ছিল। ওই সব যানবাহনের শব্দ ও হর্নের কারণে তাঁরা ট্রেনের আওয়াজ শুনতে পাননি। তা ছাড়া যানবাহনের আলোর কারণে ট্রেনের আলো বোঝা যাচ্ছিল না। ট্রেন একেবারে কাছে আসার পর বোঝা যায়।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন যমুনা সেতু চালু হয়। সেতুর পূর্ব প্রান্তে এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরে এই সড়কের পাশেই ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেলপথ স্থাপন করা হয়।

আজ শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে ইব্রাহীমাবাদ রেলস্টেশন থেকে কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগুর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার রেলপথ মহাসড়কের পাশে। এর মধ্যে ইব্রাহীমাবাদ রেলস্টেশনের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা নেটের প্রাচীর দেওয়া। শুধু ওই অংশটুকুতে মহাসড়ক থেকে কেউ রেলপথে ঢুকতে পারেন না। বাকি অংশে মানুষ অবাধ যাতায়াত করতে পারে।

মহাসড়কের পাশে গোহালিয়াবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায়, সেতু পার হয়ে আসার পর অনেক যানবাহন থামছে। ওই সব যানবাহনের যাত্রীরা রেলপথ পার হয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যাচ্ছেন। স্থানীয় লোকজন বলছেন, গাড়ি নষ্ট হলে বা কোনো কারণে থামলে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বা ঘোরাঘুরি করতে রেলপথে যান। এ জন্য প্রায়ই সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সকালে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা থেকে ছেড়ে আসা বনশ্রী পরিবহনের একটি বাস মির্জাপুরের শিল্প এলাকা গোড়াইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। সন্ধ্যার পর তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসটি যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে রেলপথ লাগোয়া মহাসড়কে থামে। পরে বাসের যাত্রীদের কেউ রেলপথে বসেন, কেউ হাঁটাহাঁটি করতে থাকেন। তখন সিরাজগঞ্জগামী ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহত হন।

টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির একটি সূত্র জানায়, যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের রেলপথে প্রতি মাসেই ট্রেনে কাটা পড়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা থাকে। মহাসড়ক লাগোয়া রেলপথ হওয়ায় এ দুর্ঘটনা হয় বলে সূত্রটি জানায়।

যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের ইব্রাহীমাবাদ রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, এ এলাকায় মানুষ রেলপথে হাঁটাহাঁটি করেন। তাই দুর্ঘটনাও বেশি হয়। তারা জনসাধারণকে রেলপথে না ওঠার ব্যাপারে স্টেশনের মাইকে প্রচার করে থাকেন।