হিমাগার থেকে আলু কেনাবেচা যেন তা করতে পারে, তার তদারকি করছেন রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতারা। আজ বৃহস্পতিবার পবা উপজেলার বায়া উত্তরা কোল্ডস্টোরেজে
হিমাগার থেকে আলু কেনাবেচা যেন তা করতে পারে, তার তদারকি করছেন রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতারা। আজ বৃহস্পতিবার পবা উপজেলার বায়া উত্তরা কোল্ডস্টোরেজে

যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে রাজশাহীতে দুদিন ধরে হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা বন্ধ

হিমাগারে আলু রাখার যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে দুদিন ধরে রাজশাহীর হিমাগার থেকে ব্যবসায়ীরা আলু বেচাকেনা বন্ধ রেখেছেন। রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি বুধবার দুপুরে জেলার পবা উপজেলার তকিপুরে তাদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত আলু কেনাবেচা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে পবা উপজেলার সরকার কোল্ডস্টোরেজে গিয়ে দেখা যায়, হিমাগার থেকে আলু বের করার কোনো কার্যক্রম নেই। আগের খালি বস্তা হিমাগারের শেডের নিচে পড়ে রয়েছে। হিমাগারের কম্পিউটার অপারেটর তুহিন মাহমুদ বলেন, দুদিন থেকে এই হিমাগারে কোনো অর্ডার কাটতে পারেননি।

একই দৃশ্য দেখা যায়, পাশের উত্তরা কোল্ডস্টোরেজেও। একেবারে অচল অবস্থা। অথচ প্রতিদিন প্রতিটি হিমাগারের সামনে আলু কেনাবেচা নিয়ে মানুষের ব্যস্ততার শেষ থাকে না।

জানতে চাইলে বুধবার সরকার কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থাপক রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ব্যবসায়ীরা এক বস্তায় ৬০ থেকে ৭০ কেজি আলো রাখেন। তাঁরা বস্তা ঠিকা চুক্তিতে আলু রাখতে চান। কিন্তু সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্ধারণ করে দিয়েছে, একটি বস্তায় ৫০ কেজির বেশি আলো রাখা যাবে না। তারপরও তাঁরা মানেন না। এ জন্য কেজি হিসাবে আলুর ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এক কেজি আলুর জন্য হিমাগার ভাড়া দিতে হবে ৬ টাকা ৭৫ পয়সা।

গত বছর কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলুতে লোকসান করেছেন, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে ছয় টাকা কেজি হিসাবে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার নির্ধারিত ভাড়া এবারও ব্যবসায়ীরা দেবেন না—এই দাবিতে তাঁরা বেচাকেনা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর সঙ্গে শেড ভাড়া নিয়েও ঝামেলা হচ্ছে। সরদারদের (শ্রমিকদের) ভাড়া সে সময় যতটুকু বাড়ানো হয়েছিল, ব্যবসায়ীরা তা আর দিতে চাইছেন না। এ নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, ২০২৪ সাল থেকে তাঁরা আন্দোলন করছেন। তখন বস্তা চুক্তিতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হিমাগারে আলু রাখতেন। তখন ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত এক বস্তা হিসেবে আলুর জন্য ভাড়া দিতে হতো। ডিসেম্বর মাসে এসে ভাড়াটা ছিল সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এর ভেতর থেকে তাঁরা যে যেভাবে পারেন কমিশন পেতেন। ৫০, ৬০, ১০০ টাকা যে যাঁর মতো কমিশন পেতেন। এরপর ২০২৫ সালে কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন, ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশন জোর করে আলুর ভাড়া ও শেডের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। এক বস্তা আলুর ভাড়া ৩০০ টাকা থেকে ৪৭৫ টাকা করেছে। শেডের ভাড়া অর্থাৎ এক বস্তা আলুর পেছনে যে শ্রমিক খরচ, সেটা ৩২ টাকা থেকে ৩৭ টাকা করেছে। তখন দেশে আন্দোলন চলছিল, তাই সবাই অনুরোধ করেছিলেন রাজনৈতিক সরকার এলে এটা ঠিক করে দেবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ এপ্রিল তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় চিঠি দেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেন, তানোর-গোদাগাড়ী আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে তিন–চারবার বৈঠক করেন। কিন্তু সুরাহা না হলে গত মঙ্গলবার তাঁদের সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিট হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

আহাদ আলী শাহ আরও বলেন, আলু রাখার যৌক্তিক ভাড়া ফের নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এই আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না। গত বুধবার দুপুরে তাঁরা সংবাদ সম্মেলন করেও এ ঘোষণা দিয়েছেন। আলুচাষিদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তাঁরা এই আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। জেলায় ৩৬টি হিমাগার রয়েছে। প্রতিদিন একটি হিমাগার থেকে যদি এক হাজার বস্তা আলু বের হয়, তাহলে ৩৬ হাজার বস্তা আলু বের হয়। সেটি বুধবার থেকে বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা মার্কেটিং অফিসার সানোয়ার হোসেন বলেন, একটি ব্যবসায়ী সমিতি এই আন্দোলন করছে। তারা সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্ধারিত মূল্যে আলু রাখতে চায় না। তারা কম দিতে চায়। এই দাবি নিয়ে তারা তাঁর কাছে এসেছিল। তিনি তাদের বুঝিয়ে বলেছেন, যেহেতু সরকার এখনো এই মৌসুমের জন্য আলুর মূল্য নির্ধারণ করে দেয়নি, সে জন্য তার কিছু বলার নেই। আলুর দাম নির্ধারিত বলে সমন্বয় করা যায় কি না, তিনি সেই চেষ্টা করতে পারতেন। এখন বাজার অর্থনীতিতে কে বেচাকেনা করবে, না করবে, সেটা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।