চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আযমকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আযমকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার লাগানো হয়েছে। আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর–সংলগ্ন ওয়াশরুম এবং কলা ঝুপড়ির দেয়ালে এসব পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারে গোলাম আযমের মুখে জুতার চিহ্ন আঁকা ছিল এবং নিচে লেখা ছিল, ‘আমাকে জুতা মারুন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাকসুর এজিএস ও ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গোলাম আযম তো ঘৃণিত ব্যক্তি। সেই ঘৃণার জায়গা থেকেই কোনো শিক্ষার্থী হয়তো পোস্টারটি লাগিয়েছে। গোলাম আযমের পোস্টার লাগানোর বিষয়টিকে আমি তেমন বড় করে দেখছি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে না, এটি রাজনৈতিকভাবে উসকানিমূলক। তিনি তো কোনো মহান ব্যক্তিত্ব নন যে তাঁর পোস্টার লাগানো যাবে না।’

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল রাতেই কয়েকজন পোস্ট করেছে দেখলাম। আর আজ পোস্টার দেখলাম। বিষয়টি হচ্ছে, ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য কেউ হয়তো এটি করছে। তারা চাইছে আমরা যেন প্রতিক্রিয়া দেখাই। তারা ফাঁদ পাতার চেষ্টা করছে। তবে আমরা সেই ফাঁদে পা দেব না।’

মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ‘এসব বিষয় তো মীমাংসিত। তাদের আদালতে নেওয়া হয়েছে, বিচার হয়েছে। যারা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে, তারাই তো আর দেশে নেই।’

এ বিষয়ে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘পোস্টারের বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমতাদর্শের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। এর মাধ্যমে এটুকু প্রমাণ হয় যে চাকসু পরিচালিত হওয়ার পর এবং চাকসুতে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতৃত্ব দেওয়ার পর কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে না। সব মতের মানুষ তাদের মতাদর্শ প্রচার করবে—এটা তাদের বিষয়। আমরা এটিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছি।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সহরাওয়ার্দী বলেন, ‘দুষ্কৃতকারীরা গোলাম আযমের ব্যঙ্গাত্মক ছবি টাঙিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ সক্রিয় আছি। ছাত্রসংগঠনগুলোকে খেপিয়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম করা হচ্ছে। আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, সম্প্রীতি বজায় রেখে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি বজায় রাখুন। বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের—এটিকে সুষ্ঠু রাখা আমাদেরই দায়িত্ব।’