রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান (উৎস) হত্যা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি হলেন রুবেল ওরফে হেকরম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া দুজন হলেন এলিন ও শুভ কুমার। মামলার আরেক আসামি জহিরন আক্তারকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই পলাতক।
তবে ওই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন মামলার বাদী ও নিহত মশিউর রহমান রহমানের মা নুরজাহান বেগম।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা যায়, মশিউর রহমান রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের আলোর স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ওই পত্রিকার কার্যালয়ে গিয়ে রাতে বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে রংপুর নগরের ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় তাঁর মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলায় পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। প্রায় ১১ বছর ধরে মামলাটির বিচারকার্য চলে। এ সময়ে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী নুরজাহান বেগম বলেন, ‘রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই। ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। সঠিক বিচার পেতে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল হাদী বলেন, মামলার অভিযোগ অনুযায়ী জহিরন আক্তার ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে উৎস রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করিয়েছিলেন। অথচ রায়ে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষ সংক্ষুব্ধ এবং উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘মামলায় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনিই খালাস পেয়েছেন। উৎস (মশিউর) রহমান মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ করতেন। সেই কারণেই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এই রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
রায় নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোও। রংপুর সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন চৌধুরী বলেন, ‘এ রায়ে সাংবাদিক সমাজ সন্তুষ্ট নয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক, আবার মূল হোতাও খালাস পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এটি বিস্ময়কর একটি রায়।’
রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান ছালেক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ঘাটতির কারণে মূল অভিযুক্ত খালাস পেয়েছেন। এতে তাঁরা মর্মাহত। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।