
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়াসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জবাই হওয়া কোরবানির পশুর বর্জ্য দুপুর ১২টা থেকে দিবাগত রাত ১২টার মধ্যে (১২ ঘণ্টা) অপসারণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে অনুশাসন জারি করেছেন।
আজ রোববার দুপুরে বগুড়া সিটি করপোরেশন মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর শাহে আলম এ কথা বলেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু কিছু সিটি করপোরেশন চ্যালেঞ্জ দিয়েছে, সাত থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ শেষ করবে। বগুড়া যেহেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শহর, নতুন সিটি করপোরেশন। সে কারণে অন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বগুড়া সিটি করপোরেশনও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আট ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণ করে মহানগরবাসীকে স্বস্তি দেবে বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।’
বগুড়া সিটি করপোরেশন নিয়ে সরকারের নানা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়া মহানগরকে সুন্দর করে সাজাতে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন জারি করেছেন। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ বা বগুড়া ওয়াসা গঠনের কার্যক্রম চলমান। শিগগির বগুড়া নগরীতে পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনের দায়িত্ব নেবে ওয়াসা। এ ছাড়া বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বউক) গঠন প্রক্রিয়াধীন। বগুড়া শহরায়ণ, নতুন নতুন শহর নির্মাণের বিষয়টি বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দেখবে।
স্থানীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য শিগগির বগুড়া মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী বগুড়া সফরের সময় বগুড়া মহানগর পুলিশ, বগুড়া ওয়াসা, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বগুড়া–সিরাজগঞ্জ রেললাইন নির্মাণকাজ ও বগুড়া ফুটবল স্টেডিয়ামের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। যানজট নিরসনে বগুড়া মহানগরের মাটিডালী থেকে বনানী প্রধান সড়কে সব ধরনের রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যানসহ অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস সার্ভিস (টাউন সার্ভিস) চালু হবে। এ জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নেতৃত্বে বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দল বনানী থেকে মাটিডালী সড়ক সরেজমিন পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা নিয়ে মতামত দিয়েছে।
মহানগরের ভেতর থেকে তিনটি রেলগেট অপসারণ দীর্ঘদিনের একটি মহাপরিকল্পনা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হলে নগরীর রেললাইনের ওপর চাপ আরও বাড়বে। রেলগেট বন্ধ থাকায় যানজট ও ভোগান্তি বাড়বে। তিনটি রেলগেটে ওভারপাস নির্মাণ করা যায় কি না, সে বিষয়ে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য সড়ক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে। আর্থিক সমস্যার কারণে সড়ক বিভাগ ওভারপাস নির্মাণ করতে না পারলে সিটি করপোরেশনের অর্থে ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।
মতবিনিময় সভায় বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম ঈদের দিন রাত আটটার মধ্যে নগরীর সব বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করার ঘোষণা দেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বগুড়া–৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম, বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার সায়েম মাহমুদ প্রমুখ।