মো. হাছান। ১৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে আটটার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুমাইরা ইয়াসমিনের তোলা।
মো. হাছান।  ১৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে আটটার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুমাইরা ইয়াসমিনের তোলা।

চট্টগ্রামে শিশু নিখোঁজ

‘সারা দিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি, ছেলেটাকে খুঁজি, কোথাও পাই না’

‘গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সকালে ছেলেটার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। হালকা নাশতা করে সে ঘর থেকে বের হয়। সকাল ৯টার দিকে শেষবার তাকে দেখি। এর পর থেকে আর কোনো খোঁজ নেই।’

এ কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী বেগম (৪০)। নিজের একমাত্র সন্তান মো. হাছানের নিখোঁজের খবর জানাতে সম্প্রতি তিনি প্রথম আলো চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এসেছিলেন। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগর এলাকার মাহবুব কলোনির একটি ছোট ঘরই ছিল তাঁর সংসার। সঙ্গে ছিল আট বছরের ‘বুকের ধন’ হাছান। গত ১৪ ডিসেম্বর নগরের ষোলশহর এলাকা থেকে সে নিখোঁজ হয়।

ছেলের কথা উঠতেই শিল্পী বেগম আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেন না। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কাঁপা কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেকে খুঁজতে খুঁজতে আমি হয়রান হয়ে গেছি। কোথাও পাচ্ছি না। আমার আর কেউ নেই। শুধু এই ছেলেটাই ছিল আমার সম্বল। অনেক কষ্টে দিন কাটাই। কেউ কি আমার বুকের ধনটার খোঁজ এনে দিতে পারেন। আপনারা আমার ছেলেটাকে খুঁজে দেন।’

হাছান নিখোঁজ হওয়ার পর টানা ২২ দিন ভাত খাননি শিল্পী বেগম। কথা বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠ আরও জড়িয়ে আসে। কিছুটা থেমে তিনি বলেন, ‘আমার গলা দিয়ে পানিও নামে না। সারা দিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি, ছেলেটাকে খুঁজি, কোথাও পাই না। দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছি। থানায় জিডি করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। কেউ আমার বাচ্চাটাকে এনে দিতে পারছে না।’

শিল্পী বেগমের কাছে ছেলের মাত্র দুটি ছবি আছে। একটি একেবারে ছোটবেলার। আরেকটি তোলা হয়েছিল ১৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে। ছবিটি তুলেছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুমাইরা ইয়াসমিন। সেটি তোলা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনে।

হুমাইরা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সেদিন রাতে বটতলীর চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে শাটল ট্রেনটি ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছিল। ওই ট্রেনে ছেলেটাকে দেখি। সে আমার সিটের সামনে এসে বসে। আমি জিজ্ঞেস করি, কেন ট্রেনে উঠেছে, বাসা কোথায়। পরে ষোলশহর এলাকায় তাকে নামিয়ে দিই। তখন একটা ছবি তুলে রাখি।’

ঘটনার ৯ দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে হাছানের নিখোঁজের তথ্য দিয়ে পোস্ট করেন। সেখানে শিল্পী বেগমের দেওয়া নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিও শেয়ার করা হয়। পোস্টটি দেখে হুমাইরা ইয়াসমিন শিল্পী বেগমকে ফোন করে ছবিটি পাঠান। তিনি জানান, নিজেও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

ষোলশহর এলাকা নগরের পাঁচলাইশ থানার আওতাধীন। এ ঘটনায় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ওই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিল্পী বেগম। পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক এস এম সফিউল আজম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিচ্ছি। তবে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’