
নোয়াখালী-ঢাকা রেলপথে সেবার মানবৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবিতে নোয়াখালীতে মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার সকালে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে ‘সচেতন নোয়াখালীবাসী’ নামের একটি নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঁচ দফা দাবি–সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশে বক্তব্য দেন সচেতন নোয়াখালীবাসী সংগঠনের মুখপাত্র মুনীম ফয়সাল, নোয়াখালী নাগরিক অধিকার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন, আলোকিত মানবিক অর্গানাইজেশনের সমন্বয়ক পারভেজ মোল্লা, নুসরাত জাহান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে নোয়াখালী জেলা বেশ পিছিয়ে। নোয়াখালীর রেল খাত দেশের সবচেয়ে অবহেলিত রুটে পরিণত হয়েছে। মাত্র দুটি ট্রেন এ রুটে চলাচল করে। একমাত্র আন্তনগর ট্রেন উপকূল একপ্রেস প্রতিদিন গড়ে ২ ঘণ্টা বিলম্বে পৌঁছায়, যা সপ্তাহান্তে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব করে। এতে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, নোয়াখালী এক্সপ্রেস নামের মেইল ট্রেনটি মাত্র তিনটি কোচ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বহুবিধ অব্যবস্থাপনার ফলে সাধারণ মানুষ এটার সুবিধা পাচ্ছেন। অথচ এক সময় নোয়াখালী-চট্টগ্রাম, নোয়াখালী-চাঁদপুর, নোয়াখালী-সিলেট রুটে ট্রেন চলত বিরামহীন। মালগাড়ি নিয়মিত আসত দেশের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে। ১৮৮৯ সালে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সেরা রেলস্টেশন হয়েছিল চৌমুহনী স্টেশন। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের একসময়ের প্রভাবশালী ও রাজস্ব আদায়ের অন্যতম চৌমুহনী স্টেশন আজ ধুঁকে ধুঁকে চলছে। রেলওয়ের জায়গা দখল করে অনেক বহুতল বাণিজ্যিক ভবন গড়ে উঠছে।
সংহতি সমাবেশে নোয়াখালীর রেলসেবার মানোন্নয়নে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন বক্তারা। দাবিগুলো হলো—প্রস্তাবিত ও রেলমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত নিঝুম এক্সপ্রেস দ্রুত চালু করতে হবে। উপকূল এক্সপ্রেস, ডেমু ও মালবাহী ট্রেনসহ নোয়াখালী-চাঁদপুর, নোয়াখালী-সিলেট, নোয়াখালী-চট্টগ্রাম রুটের বন্ধ হওয়া ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করতে হবে। উপকূল এক্সপ্রেসের সময়সূচি পরিবর্তন করে আগের সময়সূচিতে নিতে হবে ও উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের সংখ্যা দুটি করতে হবে, যেন একই সময়ে ঢাকা ও নোয়াখালী থেকে দুটি ট্রেন ছাড়তে পারে। বন্ধ হওয়া স্টেশনগুলো পুনরায় চালু ও লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত রেললাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তর করতে হবে। নোয়াখালী স্টেশন থেকে চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত (ইছাখালী স্টেশন ও সাহেবঘাটা ইয়ার্ড স্টেশন) পুনর্নির্মাণ ও নির্মাণাধীন নোয়াখালী ইপিজেডের সঙ্গে চট্টগ্রামকে যুক্ত করার লক্ষ্যে নোয়াখালী স্টেশন থেকে জোরালগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামের সঙ্গে নতুন রেললাইন নির্মাণ করতে হবে।
এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন নোয়াখালী নাগরিক অধিকার আন্দোলন, লাতিন ফর হিউমান বিয়িং অর্গানাইজেশন, নোয়াখালী সাইবার ওয়ারিয়র্স, আলোকিত মানবিক অর্গানাইজেশন, ফেয়ারি নেটওয়ার্ক, নিরাপদ নোয়াখালী চাই, রয়েল ডিস্ট্রিক নোয়াখালীসহ বিভিন্ন নাগরিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।