গতকাল রোববার বিকেল চারটার দিকে রংপুর নগরের স্টেশন রোডে ক্যাবল ওয়ানের কার্যালয়ে যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ ও আকিবুল রহমানসহ তাঁদের ১৫-২০ জন অনুসারী প্রবেশ করেন
গতকাল রোববার বিকেল চারটার দিকে রংপুর নগরের স্টেশন রোডে ক্যাবল ওয়ানের কার্যালয়ে যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ ও আকিবুল রহমানসহ তাঁদের ১৫-২০ জন অনুসারী প্রবেশ করেন

হুমকি দিয়ে যুবদল নেতা বললেন, ‘বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব’

রংপুরে কারাগারে থাকা এক যুবলীগ নেতার ‘ডিশ-ইন্টারনেট’ ব্যবসা দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে জেলা যুবদলের দুই নেতাসহ তাঁদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কেব্‌ল অফিসে গিয়ে হামলা-ভাঙচুর ও ম্যানেজারকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে খুনের হুমকির দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ীর পরিবার। অভিযোগের পর গতকাল রোববার রাতে যুবদলের ওই দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান (মনু) ও সহসাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ (গালিব)। গতকাল রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাঁদের সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরে মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ফিড অপারেটর হিসেবে ‘ক্যাবল ওয়ান নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নগরের কামাল কাছনা থেকে দখিগঞ্জ শ্মশান এলাকা পর্যন্ত কেব্‌ল ও ওয়াই–ফাই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পরিবারের দাবি, নতুন সরকার আসার পর তাঁদের ব্যবসা হস্তান্তর করতে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু রাজি না হওয়ায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রংপুর নগরের কামাল কাছনা এলাকায় পূর্বপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে তাঁদের বৈধ ফিডারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় তাঁরা থানায় আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। গত শনিবার হারুন অর রশিদের স্ত্রী রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করেন।

রংপুর কোতোয়ালি থানায় করা অভিযোগে বলা হয়েছে, আগের ঘটনার জেরে গতকাল রোববার বিকেল চারটার দিকে রংপুর নগরের স্টেশন রোডে ক্যাবল ওয়ানের কার্যালয়ে তামজিদুর রশিদ ও আকিবুল রহমানসহ তাঁদের সঙ্গে ১৫-২০ জন প্রবেশ করে ব্যবস্থাপক রায়হান আহম্মেদকে মারধর ও কার্যালয়ের ল্যাপটপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। তাঁরা তামজিদুর রশিদকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দিতে চাপ দেন।

এ ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ প্রথম আলোর হাতে এসেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ক্যাবল ওয়ান কার্যালয়ে অবস্থানকালে একপর্যায়ে যুবদল নেতা আকিবুল রহমান মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের ম্যানেজার মাহাদি হাসানকে মুঠোফোনে কল করে গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় আকিবুল বলেন, ‘লাইনের কী সমাধান করবেন। তুই (মাহাদি) আওয়ামী লীগের দালালি করছিস। তোর বাসায় গিয়ে গুলি করে আসব। আজকে বিকেলের মধ্যে যদি সমাধান না করিস, তাহলে তোর বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তামজিদুর রশিদ দাবি করেন, ‘২০১৫ সাল পর্যন্ত এ লাইনটি তাঁর ছিল। ওই সময় অবরোধের সময় আমি কারাগারে থাকাকালীন শুনি, হারুন আমার লাইন দখল করেছে। এটা আমার হক। আমি কোনোখানে অন্যায় করতেছি না বা কাউকে মারতে যাইনি। মৌখিকভাবে কথা বলতেছি আলোচনার ভেতরে।’ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলন করে আকিবুলদের নাম নেওয়াতে কালকে ওরা হয়তোবা অফিসে গেছে। এতে উচ্চবাচ্য হয়েছে।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান আলী প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড ও ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তামজিদুর রশিদ ও আকিবুল রহমানের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের নামে দুটি মামলা করেছে। এ ঘটনায় কেউ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি।