কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মানরা গ্রামের শাহরিয়ার হোসেন (শিহাব) এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পেয়েছে। এমন সাফল্যের খবরে আনন্দের বদলে তার বাড়িতে শোক। কারণ, গতকাল সোমবার ফলাফল প্রকাশের দুই দিন আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সে মারা গেছে।
শাহরিয়ার (১৭) মানরা গ্রামের মো. তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। চাকরি ও ব্যবসার কারণে তোফাজ্জল পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। ঢাকা বিমানবন্দর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল শাহরিয়ার। সে ছিল মা–বাবার একমাত্র ছেলে, তার দুটি ছোট বোন আছে।
চাচার বিয়েতে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে শাহরিয়ার। শনিবার দুপুরে গোসলের পর বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে দিতে যায় সে। স্বজনদের ভাষ্য, ছাদের কার্নিশে কাপড় দেওয়ার সময় বিয়ের অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনে টানানো রঙিন বাতির বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। একপর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় শাহরিয়ারকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সেদিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
এসএসসিতে সে জিপিএ-৫ পাবে—এমন প্রত্যাশা পরিবারের সবারই ছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের দুই দিন আগে তাকে হারাতে হলো।
শাহরিয়ারের চাচা জিয়াউল হক বলেন, সে খুব মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। এসএসসিতে সে জিপিএ-৫ পাবে—এমন প্রত্যাশা পরিবারের সবারই ছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের দুই দিন আগে তাকে হারাতে হলো। অন্য শিক্ষার্থীদের মতো তাঁর ভাতিজারও আনন্দ করার কথা ছিল, মৃত্যু সেই আনন্দ কেড়ে নিল।
শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে শাহরিয়ারের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি মর্মান্তিক। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তার মা–বাবা শোকাহত।