
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র থেকে পাথর লুটে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট জেলা ও মহানগরের শীর্ষ দুই নেতার নাম জড়িয়ে ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি দলটির। এ সংবাদ প্রচারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের কাছে এনসিপি সিলেট জেলার পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দিয়ে এ দাবি জানানো হয়। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপিটি জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব বরাবরে দেওয়া হয়েছে। এর অনুলিপি সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছেও পাঠিয়েছেন দলটির সিলেট কমিটির নেতারা।
এনসিপির সিলেট কমিটির স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘আমরা গভীর দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, সম্প্রতি কতিপয় কুচক্রী মহল দুদকের নাম ভাঙিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এনসিপির জেলা ও মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারীর বিরুদ্ধে সাদাপাথর লুটপাটের মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে। এ ধরনের অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশের ফলে আমাদের দুই প্রধান সমন্বয়কারীর ব্যক্তিগত মানমর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি আমাদের রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তিও কলঙ্কিত হচ্ছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যা এনসিপিকে দুর্বল করার নোংরা প্রয়াস।’
স্মারকলিপিতে দুটি দাবি জানানো হয়। প্রথমটি হচ্ছে, মিথ্যা সংবাদ প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয় দাবিটি হচ্ছে, দুদকের নামে প্রকাশিত মিথ্যা ও প্রমাণবিহীন প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রকৃত তথ্য যাচাইপূর্বক সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিলেট মহানগর শাখার প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাদেক মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়ক কামরুল ইসলাম (আরিফ), ফয়সাল আহমেদ, মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রাহমান (আবজল), কিবরিয়া সারওয়ার, তারেক আহমদ (বিলাস), জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক সালমান খুরশিদ, সদস্য নুরুল ইসলাম, মনিরুল সাকিব, সেলিম আহমদ, আবদুল ওয়াদুদ (শিপন) প্রমুখ।
সম্প্রতি জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র থেকে সাদাপাথর লুটের ঘটনা ঘটে। ১৩ আগস্ট সাদাপাথর এলাকায় এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালায় দুদক। দুদক সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফী মো. নাজমুস সাদাৎ-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ অভিযান চালায়। পরে অভিযানে পাওয়া যাবতীয় তথ্য প্রাথমিক প্রতিবেদন আকারে ঢাকায় পাঠানো হয়।
দুদকের পাঠানো ওই প্রাথমিক প্রতিবেদনে লুটপাটে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪২ জন রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তালিকায় বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি এনসিপি সিলেট জেলার প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দীন ও মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাদেক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর নামও আছে।
এদিকে দুদকের তালিকায় এনসিপির দুই নেতার নাম থাকার বিষয়ে ২১ আগস্ট বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এনসিপির স্থানীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে পাথর লুটে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তাঁরা বিষয়টিকে ‘ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য’ বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় এনসিপির কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নন। অথচ কিছু গণমাধ্যমে জেলা ও মহানগরের দুজন শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এটা ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যমূলক ও দুঃখজনক।