শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ফটো জোনে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। জেলা অডিটোরিয়াম, মাগুরা
শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ফটো জোনে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। জেলা অডিটোরিয়াম, মাগুরা

মাগুরায় জিপিএ-৫ সংবর্ধনা

ফল ঘোষণার দিনের মতো অনুভূতি হলো

‘এসএসসি পরীক্ষার আগে হঠাৎ হতাশায় পড়ে যাই। ভয় হচ্ছিল, ১০ বছরের পরিশ্রমের ফল কী হবে। অবশেষে সব চাপ উপেক্ষা করে পরীক্ষাগুলো দিলাম। যেদিন রেজাল্ট দিল, দেখলাম জিপিএ–৫ পেয়েছি। তখন হাসব না কাঁদব, বুঝে পাচ্ছিলাম না। আজ এই অনুষ্ঠানে এসে সেদিনের মতো অনুভূতি পেলাম। অনেক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো।’

শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আজ বৃহস্পতিবার কথাগুলো বলে কৃতী শিক্ষার্থী মারিয়া মেহজাবিন। মাগুরা সদর উপজেলার একটি মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পেয়েছে সে।

প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হচ্ছে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা। ‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় এ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

সংবর্ধনায় নিজের অনুভূতি জানিয়ে বক্তব্য দেয় মারিয়া মেহজাবিন

আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় থাকছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা–গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।

সংবর্ধনার মাগুরা পর্ব আয়োজন করা হয় শহরের নোমানী ময়দানে জেলা অডিটোরিয়ামে। এতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সকাল সাড়ে আটটার পর থেকেই কৃতী শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে এসেছিল, কেউ এসেছিল মা–বাবার সঙ্গে।

সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর মাগুরা প্রতিনিধি কাজী আশিক রহমান। তিনি প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের চিঠি পড়ে শোনান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে খুলনা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষক সৌরভ অধিকারী বলেন, ‘মাধ্যমিকের পরের পথটা কিন্তু মসৃণ নয়। হতাশা আসে, নানা প্রলোভন আসে। তবে এর সবকিছু থেকে দূরে থাকতে আমাকে সহযোগিতা করেছে বই পড়া, বিতর্ক করা, সিনেমা দেখার মতো অভ্যাস। আমি আশা করি, তোমরা এসব ভালো অভ্যাস গড়ে তুলবে।’

অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর নানা উদ্যোগ ও কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য দেন প্রথম আলোর এস্টাবলিশমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান উৎপল কুমার চক্রবর্তী। তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থকে ‘না’ বলার শপথ করান।

জেলা বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক ফারহানা সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকেরাও অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। কবির হোসেন নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে।’

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বন্ধুসভার পুরোনো সদস্য রফিকুল ইসলাম রিপন ও মোল্লা শহীদ। আবৃত্তি করেন রাইসা আকবর এবং নৃত্য পরিবেশন করে শিশুশিল্পী প্রিয়সী সরকার। এ ছাড়া দুই কৃতী শিক্ষার্থী সংগীত পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া শিক্ষার্থীরা অনলাইন কুইজে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে বিজয়ী ১০ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি সাগর জামান, মাগুরা বন্ধুসভার সভাপতি মাহাবুবুল আকবর প্রমুখ।