কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছেপটখালী ও মনখালী সমুদ্রসৈকত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছর। পানিতে থাকার কারণে মরদেহগুলো বিকৃত হয়ে যাওয়ায় আজ বুধবার রাত আটটা পর্যন্ত তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ বলছে, মরদেহগুলো গতকাল মঙ্গলবার টেকনাফে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের হতে পারে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল ভোরে টেকনাফ উপকূলে রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যায়। ওই ঘটনায় একজন নারী ও তাঁর শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়। কয়েকজন নিখোঁজ ছিলেন। উখিয়ার ছেপটখালী ও মনখালী সৈকতে ভেসে আসা তিনটি মরদেহ ওই নৌকার যাত্রীদের হতে পারে। মরদেহের শারীরিক গঠন দেখে তাঁদের রোহিঙ্গা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য মরদেহগুলোর ছবি রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অনলাইন চ্যানেলে পাঠানো হয়েছে। তবে রাত আটটা পর্যন্ত কারও পরিচয় শনাক্ত হয়নি।
পুলিশ জানায়, মরদেহ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য আজ সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ বলেন, স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, আজ সকাল সাতটার দিকে স্থানীয় কয়েকজন জেলে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় সৈকতের পানিতে তিনটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তাঁরা বিষয়টি ইনানী পুলিশ ফাঁড়িতে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
এর আগে গতকাল ভোরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী পেরিয়ে টেকনাফে আসার সময় রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যায়। এতে একজন নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়। ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি ও আটজন রোহিঙ্গা ছিলেন। পুলিশ বলছে, নৌকাটির যাত্রীদের সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল।
নিহত দুজনের একজন রোহিঙ্গা নারী ছুরা খাতুন (২৮)। অপরজন তাঁর শিশুসন্তান।