মো. সোলাইমান মিয়া
মো. সোলাইমান মিয়া

কুমিল্লায় বাসচালক ও সহকারীকে মারধরের অভিযোগে ছাত্রদল নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা সদর থেকে ঢাকায় চলাচলকারী রূপান্তর পরিবহনের বাসচালক ও সহকারীকে মারধরের অভিযোগে মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোলাইমান মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মেঘনা উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওই মারধরের ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ উদ্দীন স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে গতকাল রাতে ওই নোটিশ দেওয়া হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সোলাইমান মিয়াকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বরাবর এ বিষয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

রূপান্তর পরিবহনের মালিকপক্ষের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা সোলাইমান মিয়া ও তাঁর এক সফরসঙ্গী টিকিট না কেটেই লাইন ভেঙে বাসে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় বাসচালক মো. রাকিবের সহকারী নেছার উদ্দিন তাঁদের টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়িয়ে সারিবদ্ধভাবে বাসে ওঠার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে নেছার উদ্দিন ও রাকিবের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতা সোলাইমান মিয়া উত্তেজিত হয়ে নেছার উদ্দিন ও রাকিবকে মারধর করেন। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে পড়লে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত রূপান্তর পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঢাকাগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খবর পেয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক করেন। দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দেন।

রূপান্তর পরিবহনের বাসমালিক মিঠু মিয়া বলেন, আহত বাসচালক ও চালকের সহকারীকে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোলাইমান মিয়া বলেন, স্থানীয় এক ব্যক্তি কিছু মালামাল নিয়ে রূপান্তর পরিবহনের বাসে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। বাসচালকের সহকারী বাসের সাইড বক্সে মালামাল না নিয়ে যাত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। সমস্যাটি সমাধানের লক্ষ্যে কথা বলতে গেলে বাসচালকের সহকারী নেছার উদ্দিন তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি হয়। এর বেশি কিছু হয়নি।

মেঘনা থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা চলছে।