বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আসাদনগরে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ আসনের প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি
বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আসাদনগরে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ আসনের প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি

সরকারের কোনো কোনো অংশ কোনো কোনো পক্ষে ঝুঁকে যাচ্ছে: জোনায়েদ সাকি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের বিএনপির শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী ও দলটির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ভোটারদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমরা দেখছি সরকারের ভেতরে কোনো কোনো অংশ কোনো কোনো পক্ষের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। আর কোনো নির্বাচন নিয়ে কারচুপি, মেকানিজম, নানা রকম কৌশল করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা বাংলাদেশের মানুষ মেনে নিবে না। বাঞ্ছারামপুরের মানুষও মেনে নিবে না। আমরা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই।’

সোমবার বিকেল বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আসাদনগরে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন জোনায়েদ সাকি। তাঁর মতে, দেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য। এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘কাজেই নির্বাচন বানচাল যাতে কেউ করতে না পারে, তার জন্য আমাদের সবার দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।’

নির্বাচনে টাকার খেলা দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘এই বাঞ্ছারামপুরে টাকার খেলার নানা ঝনঝনানি শোনা যাচ্ছে। আপনারা কি টাকার খেলার কাছে হেরে যাবেন? টাকার খেলার মানুষের কাছে ভোটের অধিকার যেতে দেবেন? আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। মানুষ টাকার খেলার কাছে হারবে না।’

সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সংবিধানকে এমনভাবে বদলাতে হবে, যাতে এই সংবিধানকে আর কেউ পকেটে ঢুকিয়ে আমাদের জনগণের ওপর ছুরি ঘোরাতে না পারে। সংবিধানকে গণতান্ত্রিক করতে হবে। গণতান্ত্রিক সংবিধান পেতে হলে ক্ষমতার ভারসাম্য দরকার। ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে থাকলে নানা দিক থেকে অধঃপতন ঘটতে পারে। আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য চেয়েছি।’

নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনকে আমরা একটা আন্দোলনের জায়গা থেকে দেখছি। আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছি। নির্বাচনকে যদি আমরা সফল করতে পারি, তার সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে যাওয়া গভীরভাবে সম্পর্কিত। গণভোটকে আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিব। গণভোটে দুটো সিদ্ধান্ত হবে—একদিকে জুলাই জাতীয় সনদ পাস হবে, অন্যদিকে আগামী সংসদকে এই সনদের ভিত্তিতে মৌলিকভাবে সংবিধান সংস্কার করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। আগামী সংসদ হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সংসদ। ছয় মাস সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। আর একই সাথে পাঁচ বছর পূর্ণ জাতীয় সংসদ হিসেবে কাজ করবে।’

জনগণের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য তৈরি করে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক বলেন, ঐক্য কীভাবে টেকে, ঐক্য টেকে যখন ন্যায্যতা থাকে, গণতন্ত্র থাকে। ঐক্য টেকে যখন মানুষ ন্যায়বিচার পায়।

সহিংসতার রাজনীতি এড়িয়ে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে জোনায়েদ সাকি, ‘রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, একে অপরকে পরাজিত করা, লড়াই করা, থাকবে। কিন্তু সেসব যেন খুনোখুনির পর্যায়ে না যায়। সামাজিকভাবে আমরা এসব প্রতিরোধ করব।’

নির্বাচিত হলে নিরাপদ বাঞ্ছারামপুর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘আমরা নতুনভাবে বাঞ্ছারামপুর তথা পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে চেনাতে চাই। সেটা যদি তৈরি করতে হয়, নিরাপদ বাঞ্ছারামপুর হবে বাংলাদেশের একটা নতুন জায়গা, নিরাপত্তার দিক থেকে বাঞ্ছারামপুর রোল মডেল।’

নির্বাচনী সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।