বৈদ্যুতিক তারে বসা শত শত চড়ুই পাখি। রোববার সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জলিল মার্কেটের সামনে
বৈদ্যুতিক তারে বসা শত শত চড়ুই পাখি। রোববার সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জলিল মার্কেটের সামনে

ব্যস্ত শহরে সন্ধ্যার অতিথি শত শত চড়ুই

দিনভর যানবাহনের শব্দ, মানুষের হাঁকডাকে ব্যস্ত নওগাঁ শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকা। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই সড়কের পাশে জলিল মার্কেটের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারে জড়ো হয় শত শত চড়ুই পাখি। তাদের কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।

রোববার সন্ধ্যায় সেখানে দেখা যায়, জলিল মার্কেটের প্রধান ফটকের পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে টানা তারের বিভিন্ন অংশে সারি সারি পাখি বসে আছে। কোনো তারে পাশাপাশি কয়েকটি, আবার কোথাও গাদাগাদি করে অনেক পাখি। হঠাৎ একঝাঁক চড়ুই ডানা মেলে উড়ে যায়। মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যায় তারের একটি অংশ। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে বসে একই জায়গায়।

এই দৃশ্য দেখতে থেমে যান পথচারীরাও। কেউ দাঁড়িয়ে পাখিদের দেখেন, কেউ মুঠোফোনে ছবি তোলেন। জলিল মার্কেটের ব্যবসায়ী হানিফ উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার দিকে পাখিগুলো এখানে আসে। এত পাখি একসঙ্গে তারে বসলে দেখতে ভালো লাগে। সারা রাত এখানে থাকে, ভোরে চলে যায়।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান অফিস শেষে প্রায়ই জলিল মার্কেটের সামনে বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা দেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের সঙ্গে পাখিরাও যেন এখানে আড্ডা দেয়। স্থানীয় লোকজনও তাদের বিরক্ত করেন না।’

সন্ধ্যা হলেই চড়ুইদের কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। রোববার সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায়

কেন প্রতিদিন একই সময়ে পাখিগুলো এখানে জড়ো হয়, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না স্থানীয় লোকজন। তাঁদের ধারণা, দিনের ব্যস্ততা শেষে নিরাপদ আশ্রয় বা বিশ্রামের জন্য পাখিগুলো জায়গাটি বেছে নেয়।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) নওগাঁ জেলা কমিটির সভাপতি হেফজুল ইসলামের মতে, শহরে গাছপালা ও খোলা জায়গা কমে যাওয়ায় পাখিদের স্বাভাবিক আবাসস্থলও সংকুচিত হচ্ছে। এতে বৈদ্যুতিক তার, খুঁটি কিংবা শহরের স্থাপনাগুলো তাদের সাময়িক আশ্রয় হয়ে উঠছে।

ব্যস্ত শহরেই যেন একটুকরা পাখি–কলোনি। রোববার সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায়

রাত গভীর হলে পাখিদের কিচিরমিচির কমে আসে। ভোরে তারা চলে যায়। আবার সন্ধ্যা নামলে ব্যস্ত শহরে ফিরে আসে চড়ুইয়ের দল। তাদের কিচিরমিচিরে বদলে যায় পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের চেনা কোলাহল।