সামিউল আলীম
সামিউল আলীম

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের আইনজীবীকে কুপিয়ে জখম বিবাদীর

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের আইনজীবীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিবাদীর বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার ছলাবুনিয়া গ্রামের স্লুইসগেট এলাকায় ওই আইনজীবীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত জাকির ফরাজী মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। অন্যদিকে হামলার শিকার আইনজীবী সামিউল আলীম (৪৪) আমড়াগা‌ছিয়া ইউ‌নিয়ন যুবদ‌লের সভাপ‌তি।

জাকির ফরাজীর বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালতে একটি মাদক মামলা চলছে। মামলাটি তাঁর পক্ষে পরিচালনা করছিলেন সামিউল আলীম। গতকাল মামলার ধার্য তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় জাকির ফরাজীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আইনজীবীর ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিউল আলীম বলেন, মামলার ধার্য তারিখ থাকায় তিনি জাকির ফরাজীকে মুঠোফোনে কল করে আদালতে হাজির হওয়ার অনুরোধ করেন। তবে জাকির ব্যস্ততার কথা জানিয়ে আদালতে হাজির হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তিনি আসামির পক্ষে সময়ের আবেদন করেন। কিন্তু আদালত আবেদনটি খারিজ করে জাকির ফরাজীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরে মুঠোফোনে জাকিরকে আদালতের আদেশের বিষয়টি জানান সামিউল। গতকাল রাত আটটার দিকে তিনি বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। সামিউলের দাবি, এ সময় জাকির মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন এবং হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর ওপরের অংশে গুরুতর জখম হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত লাগে।

স্থানীয় কয়েকজন আহত অবস্থায় সামিউল আলীমকে প্রথমে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাকির ফরাজীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান বলেন, সূত্রের মাধ্যমে একজন আইনজীবীর ওপর হামলার খবর জানতে পেরেছেন। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এখনো মৌখিক বা লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।