
কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। রোববার রাতে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা এ অভিযোগ করেন।
রাত সাড়ে আটটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন গণ অধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ। তিনি বলেন, শনিবার বিকেলে তাঁদের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ছিল। কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ের ওপর শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যের শেষ মুহূর্তে সংসদ সদস্য আমির হামজা এবং আশপাশের জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এসে অতর্কিত তাঁদের ওপর হামলা করেন। তখন তাঁরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়।
তৌকির আহমেদ আরও বলেন, ‘আমাদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দেয় তারা। তার পায়ের দুইটা রগ কেটে গেছে। আরেকজন নেতার নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং কপালের হাড় ফেটে যায়। এ ছাড়া জামায়াত-শিবিরের হামলায় অসংখ্য নেতা–কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।’
হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তৌকির আহমেদ বলেন, কুষ্টিয়া জেলা গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় জামায়াত-শিবির। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সব মালামাল, টাকা ও বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য ভাঙচুর করা হয়।
গতকাল বিকেল থেকেই ছয় রাস্তার মোড়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে সমাবেশ হচ্ছিল উল্লেখ করে তৌকির আহমেদ বলেন, তিনি (আমির হামজা) গাড়ি নিয়ে সমাবেশের সামনে দিয়ে কেন তাঁর বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তা বোধগম্য নয়। সমাবেশস্থলে পৌঁছানো মাত্র গাড়ি থামিয়ে দেন। তিনি অন্যপথেও বাড়িতে যেতে পারতেন। তার দুরভিসন্ধি ছিল।’
তৌকির অভিযোগ করেন বলেন, ‘আমির হামজা বলেছেন, “আমি নাকি ইট দিয়ে প্রথম আঘাত করেছি।” আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, এমন কোনো ছবি বা ভিডিও যদি আমির হামজা দেখাতে পারেন, তবে আমি নাকে খত দিয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেব। আর যদি না দেখাতে পারে, তবে আমির হামজাকে নাকে খত দিতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাঁদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন। এ ব্যাপারে থানায় একটি এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে গণ অধিকার পরিষদের খুলনা বিভাগীয় মুখ্য সমন্বয়ক শাকিল আহমেদ (তিয়াস), জেলা গণ অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিপ্লব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হাসান, সদর উপজেলা সভাপতি রয়েল, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুমন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।