কাজে আসছে না ৮৭ লাখ টাকার সেতুটি। সম্প্রতি হাটহাজারীর মধ্য মাদার্শা গ্রামে
কাজে আসছে না ৮৭ লাখ টাকার সেতুটি। সম্প্রতি হাটহাজারীর মধ্য মাদার্শা গ্রামে

হাটহাজারী

নির্মাণের চার বছরেও কাজে এল না ৮৭ লাখ টাকার সেতু

সেতুর মুখেই বৈদ্যুতিক খুঁটি। দুই পাশে নেই ওঠানামার কোনো সড়ক। এ অবস্থা রেখেই চার বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর আর কিছুই পরিবর্তন হয়নি। এর ফলে ৮৭ লাখ টাকার সেতুটি কোনো কাজে আসছে না।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নে সেতুটির অবস্থান। ওই এলাকার কাটাখালী খালের ওপর ২০২২ সালের শুরুর দিকে এটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। এর পর থেকে এ অবস্থাতেই রয়েছে। এ কারণে আশপাশের অন্তত ৫০ হাজার বাসিন্দা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেতুটি দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের যুক্ত করেছে। এটি ‘আবুল খায়ের গার্ডার ব্রিজ’ নামে পরিচিত। এই সেতুর এক পাশে মদুনাঘাটের কাপ্তাই সড়ক ও অপর পাশে চিকদণ্ডী ইউনিয়নের চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক রয়েছে। তবে সংযোগ সড়ক না থাকা ও মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় কোনো ধরনের গাড়ি এতে ওঠানামা করা যাচ্ছে না।

হাটহাজারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটির কাজ বাস্তবায়ন করে এস এফ কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুটি দিয়ে মধ্য মাদার্শা, দক্ষিণ মাদার্শা, চিকনদণ্ডী, শিকারপুর, খন্দকীয়া, বেচাগাজি পাড়া, আজম শাহ পাড়া, আহমদিয়া পাড়া, মুজাফ্ফরাবাদসহ অন্তত ১০–১২টি গ্রামের মানুষ উপজেলা সদর ও নগরে যাতায়াত করতেন। এ ছাড়া মদুনাঘাটের শ্যামা সুন্দরী উচ্চবিদ্যালয়, কাটাখালী উচ্চবিদ্যালয়, আকরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও শহীদ জিয়া কলেজের প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেতুটি চালু না থাকায় বাড়তি সময় ব্যয় করে বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। অনেকেই পুরোনো সাঁকো দিয়ে খালটি পাড় হচ্ছেন। এতে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রউফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘চার বছর ধরে মানুষ কষ্টে আছে। সেতুটি চালু হলে অল্প সময়েই কাপ্তাই ও রাঙামাটি সড়কে ওঠা যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এফ কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ শাকের বলেন, তাঁরা সেতুর কাজ শেষ করে দিয়েছেন। পাশের পিচঢালা সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থাকা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরানোয় সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। খুঁটি অপসারণের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে এলাকাবাসী একাধিকবার জানালেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

হাটহাজারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নিয়াজ মোরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে সংযোগ সড়ক করার কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে সেতুটিতে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা হবে।