
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) বলেছেন, ‘প্রতিটি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সপ্তাহে এক দিন হলেও খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদক থেকে বাঁচতে হলে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। মাদকের পরিবর্তে খেলাধুলা ও স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়ে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে। একটা জেনারেশন নেশার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের সঠিক পথে এনে সুস্থ-সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে পারলে দেশটা সুন্দর হবে।’
শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘মাদক বাড়ার কারণ হলো আমাদের খেলার মাঠ ছোট হয়ে গেছে। আমাদের খেলাধুলা যদি থাকত, তাহলে পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় তরুণেরা আড্ডা মেরে মাদকে আসক্ত হতো না। প্রতিটি শহরে অনেক বড় বড় বাড়ি নির্মিত হয়েছে। সেখানে অনেক ছেলেমেয়ে বাস করে। কিন্তু এসব ছেলেমেয়ের খেলাধুলা করার মতো কোনো জায়গা নেই। এতে করে তাদের স্বাস্থ্যের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি মনও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক স্কুলে প্রতিটি শ্রেণিতে সপ্তাহে এক দিন দুই ঘণ্টা করে গেমস ক্লাস রাখতে আমি জেলা প্রশাসককে বলে দিয়েছি। সেখানে ফুটবল, বাস্কেটবল থেকে শুরু করে গ্রামীণ খেলাধুলাও থাকবে। খেলাধুলা না করলে শরীর ভালো থাকে না, শরীর ভালো না থাকলে মনও ভালো থাকে না।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শেখার কোনো বয়স নেই। শিক্ষা এমন এক সম্পদ, যা কেউ চুরি করতে পারে না।’
নিজের পরিবারের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার দাদা একজন কৃষিজীবী হয়েও ১৯২৪ সালে তাঁর ছেলেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। তখন সিরাজগঞ্জে কলেজ ছিল না। ম্যাট্রিক পাস করে বাইরে গিয়ে পড়তে হয়েছে। একজন সাধারণ মানুষও স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁর সন্তানকে শিক্ষিত করবেন।’ তিনি বলেন, ‘দেশটা শুধু আমাদের নয়, আগামী প্রজন্মের। আমরা একসময় চলে যাব। আমি চাই, সিরাজগঞ্জকে এমন একটি জায়গায় রেখে যেতে, যেটা নিয়ে তোমরা গর্ব করতে পারো।’