নিহত জীবন মিয়া (বাঁয়ে) ও নিরব হোসেন
নিহত জীবন মিয়া (বাঁয়ে) ও নিরব হোসেন

ঘোরাঘুরি শেষে বাড়ি ফিরছিল দুই বন্ধু, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় নছিমনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই কিশোর নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই কিশোরের বাড়ি পাশাপাশি। ছোটবেলা থেকেই তারা বন্ধু ছিল।

নিহত ওই দুই কিশোর হলো রায়পুরা উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের সাহারচর গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে নিরব মিয়া (১৭) ও জায়েদুল মিয়ার ছেলে জীবন মিয়া (১৭)।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ‘নছিমনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই কিশোরের মৃত্যুর খবর বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। তবে নিহত কিশোরদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি।’

নিহত দুই কিশোরের স্বজনেরা জানান, গতকাল বিকেলের দিকে মোটরসাইকেলে নরসিংদী শহরে ঘুরতে গিয়েছিল নিরব ও জীবন। রাত ৯টায় বাড়ি ফেরার পথে নরসিংদী–রায়পুরা আঞ্চলিক সড়কের হাসনাবাদ এলাকায় চলন্ত একটি নছিমনের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় দুজনই মোটরসাইকেল থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

এ সময় স্থানীয় লোকজন আহত দুই কিশোরকে দ্রুত উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেন। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ১১টার দিকে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়। পরে দুজনের লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরেন তাঁরা।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, গতকাল রাতে ওই দুই কিশোরকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। দুজনের পরিস্থিতিই আশঙ্কাজনক ছিল। পরে কী হয়েছে, তা জানা নেই ওই চিকিৎসকের।

নিরব ও জায়েদুল দুজন ছোটবেলা থেকেই বন্ধু ছিল বলে জানালেন নিরবের মামা সুমন পারভেজ। তিনি বলেন, সব সময় একসঙ্গে থাকত তারা। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুও একসঙ্গেই হলো। আজ শনিবার দুপুরে জানাজা শেষে তাদের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।