
টিটু মিয়া (৫৫) পেশায় একজন মোটরসাইকেল মেকানিক। বাড়ি গাইবান্ধা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায়। তাঁর বসতঘরটি শহরের পলাশবাড়ী সড়কঘেঁষা, উল্টো পাশেই ‘আর রহমান অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন’।
আজ বুধবার বিকেলে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখছিলেন টিটু মিয়া। একপর্যায়ে তিনি বললেন, ‘তেল নিতে এত ভিড় জীবনেও দেখিনি। খাবারের জন্যও কেউ এত কষ্ট করেন না।’
আজ বিকেলে গাইবান্ধা শহরের আরও কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পেট্রলের আশায় অনেকেই ঘুরছেন এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে। যেখানে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন, সেখানেই জমে যাচ্ছে তাঁদের ভিড়।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা, মোটরসাইকেলচালক ও পাম্পের কর্মীরা জানান, তেল বিক্রির দুই দিন আগে থেকেই অনেক চালক পাম্পে মোটরসাইকেল রেখে লাইন ধরছেন। কেউ কেউ কাপড়ে ঢেকে রাখছেন যানটি, কেউ বাঁশের সঙ্গে ত্রিপল বা কাপড় বেঁধে গড়েছেন অস্থায়ী চালা। চালকেরা পাম্পে পাম্পে রাত যাপন করছেন, সেখানেই সারছেন খাওয়াদাওয়া। এমনকি অনেকেই মোটরসাইকেলের নিয়োগ করেছেন পাহারাদার।
মোটরসাইকেলচালকদের অভিযোগ, এত কষ্টের পরও তাঁরা চাহিদামতো পেট্রল পাচ্ছেন না। সাত-আট ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বলা হচ্ছে পেট্রল শেষ। কোনো কোনো পাম্পে শত শত লোককে অপেক্ষমাণ রেখে প্রশাসনের লোককে পেট্রল দেওয়া হচ্ছে। ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়ার পরও একই ব্যক্তি বারবার পেট্রল নিচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে তাঁরা ফুয়েল কার্ড চালুর দাবি জানিয়েছেন।
আর রহমান ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষায় থাকা মোটরসাইকেলচালক তাজুল ইসলাম (৫০) বলেন, অনেকের মোটরসাইকেলে পেট্রল আছে। তবু সংকটের আশঙ্কায় তাঁরা ট্যাংকি ভরিয়ে নিতে চাইছেন।
ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া গ্রামের শিক্ষক রনি মিয়া বলেন, পেট্রল পেতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সকালে পেট্রল নিতে গেলে স্কুলে যাওয়া হয় না। তাই দুপুরে ছুটি নিয়ে পাম্পে পেট্রল নিতে এসেছেন। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে অপেক্ষা করছেন। তবে পেট্রল পাবেন কি না—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
আগে যে পরিমাণ তেল বিক্রি করতে পাঁচ-ছয় দিন লাগত, এখন একই পরিমাণ তেল এক দিনেই শেষ হচ্ছে বলে জানান ‘মেসার্স কাদির অ্যান্ড সন্স’ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক খোকন মিয়া। তিনি বলেন, এরপরও শত শত ক্রেতা ফিরে যাচ্ছেন। একই ক্রেতা বারবার তেল নিচ্ছেন। অনেকে চালক বদলে তেল নিচ্ছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার ২২টি পাম্পে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা ১ লাখ ১০ হাজার লিটার, পেট্রল ৬০ হাজার লিটার ও অকটেন ১৫ হাজার লিটার। বর্তমানে দৈনিক গড়ে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ডিজেল ৩৫ হাজার ৯৪৫ লিটার, পেট্রল ৭ হাজার ৮৮২ লিটার এবং অকটেন ৬ হাজার ১৩০ লিটার।