নারায়ণগঞ্জে থানা হেফাজতে থাকা আসামিরা মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে বক্তব্যের পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দেন। গত শনিবার ফতুল্লা থানায়
নারায়ণগঞ্জে থানা হেফাজতে থাকা আসামিরা মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে বক্তব্যের পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দেন। গত শনিবার ফতুল্লা থানায়

হাজতে থাকা ১০ আসামির ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, দুই পুলিশকে প্রত্যাহার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার হাজতখানায় থাকা ১০ আসামির ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে এসব স্লোগান দেওয়ার ওই ভিডিও একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়।

থানার হাজতখানায় থাকা আসামিদের হাতে মুঠোফোন পৌঁছানো এবং তা দিয়ে ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক তরুণকে কিছু বক্তব্য দেওয়ার পর ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে শোনা যায়। এরপর সেখানে থাকা অন্য তরুণেরাও একই স্লোগান দেন।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এর আগে গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্টুরেন্টের বিপরীতে ঢাকামুখী প্রধান সড়ক থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গত শনিবার রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এর আগে গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্টুরেন্টের বিপরীতে ঢাকামুখী প্রধান সড়ক থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন ফেরদৌস (১৮), আবরার আহম্মেদ (১৮), ইয়াসিন (১৮), রাব্বি (২০), শিমুল (২০) ও নয়ন (১৮)। এ ছাড়া বাকি চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া ও ফতুল্লার পঞ্চবটি বিসিক এলাকায়।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম প্রথম আলোকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতির সময় শনিবার রাতে ওই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁদের থানার হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী আটকের বিষয়টি অভিভাবকদের ফোন করে জানানোর কথা।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গতকাল রোববার আদালতে হাজির করা হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
আব্দুস সামাদ, নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক

ওসি আরও বলেন, থানার হাজতখানায় থাকা অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এসআই মনিরুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে তাঁদের মুঠোফোন ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। কোনো এক ফাঁকে তাঁরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে স্লোগান দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।

এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গতকাল রোববার আদালতে হাজির করা হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।