সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ বহুমুখী স্কুল-সংলগ্ন মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। মঙ্গলবার সকালে
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ বহুমুখী স্কুল-সংলগ্ন মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। মঙ্গলবার সকালে

সিলেটে জামায়াতের প্রার্থী

‘নির্বাচিত হলে পুলিশ আমাকে জিজ্ঞেস না করে কারও বাড়িতে যেতে পারবে না’

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তাঁকে না জানিয়ে পুলিশ কারও বাড়িতে যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন আসনটির ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। মঙ্গলবার সকালে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সভায় ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ আমি যদি নির্বাচিত হই, এই দুই উপজেলায় (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) পুলিশ আমাকে জিজ্ঞেস না করে কারও বাড়িতে যেতে পারবে না। তাদের যথেষ্ট প্রমাণ দিতে হবে। যাঁর বাড়িতে যাচ্ছে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে, এই প্রমাণ না দেখিয়ে কোনো দারোগা সাহেব তাঁর বাড়িতে যাবে না। আমি ফাইনাল কথা বলে দিলাম।’

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ বহুমুখী স্কুল-সংলগ্ন মাঠে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নির্বাচনী জনসভা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এ সময় তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবে বলে মন্তব্য করেন।

জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে নির্বাচিত হলে আধুনিক ও নিরাপদ গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা সিলেটের মানুষেরা, আত্মসম্মানবোধ আমাদের রয়েছে। কারও বাড়িতে পুলিশ যাওয়া মানে তাঁর চৌদ্দ পুরুষের, তাঁর বংশের কপালে তিলক লাগানোর নামান্তর। অথচ যখন-তখন কিছু থানার দালালেরা দারোগা সাহেবদের ব্যবহার করে পুলিশকে পাঠায় এবং মামলার নামে বাণিজ্য করে।’

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আপনারা যদি ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে নিরাপদে বাড়িতে যেতে চান, তাহলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন। তা না হলে ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে বাড়িতে যেতে পারবেন না। এমনকি মাছের বাজার করে মাছের ব্যাগ নিয়ে বাড়িতে যেতে পারবেন না। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতকে হেফাজত করার জন্য, আমাদের হোটেল, দোকানদার, আমাদের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা নিরাপদ রাখার জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে।’

সিলেট-৬ আসনের এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘কী রাজনীতি, ধিক্কার এই রাজনীতির প্রতি। কেউ বাড়ি বানাচ্ছে, তোমাকে চান্দা দিতে হবে। কেউ দোকান তৈরি করছে, তুমি রাজনীতির নোংরা কিট, তোমাকে চান্দা দিতে হবে। কেউ একটা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে কিংবা কেউ একটা পেট্রলপাম্প দিচ্ছে, তুমি তেল কিনে পয়সা না দিয়ে চলে যাবা, বললে তার ঘাড়ে তুমি তাকে মারবা, এই সুযোগ গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে আর কেউ পাবে না। আমরা দেখব, এ রকম কোনো নিরীহ ব্যবসায়ী এবং জনগণের ওপর যদি কেউ হাত তোলে, এইটা আমার ওপর হাত তোলার নামান্তর হবে। এর বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’