কক্সবাজারের একটি ডকে দুটি নৌকা জোড়া দিয়ে তৈরি হয় আইল্যান্ড গার্ল নামের নৌযান। এতে সাগর পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম আসতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে নিউজিল্যান্ডের পরিবারটি
কক্সবাজারের একটি ডকে দুটি নৌকা জোড়া দিয়ে তৈরি হয় আইল্যান্ড গার্ল নামের নৌযান। এতে সাগর পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম আসতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে নিউজিল্যান্ডের পরিবারটি

কক্সবাজারে নিউজিল্যান্ডের কিশোরের মৃত্যু

আধুনিক নকশায় তৈরি নৌকা ‘আইল্যান্ড গার্ল’, তাতে চেপে সাগর পাড়ি দিচ্ছিল পরিবারটি

সাগরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এডওয়ার্ড আধুনিক নকশায় তৈরি করিয়েছিলেন বিশেষ নৌযান। কক্সবাজার শহরের এসএমপাড়া ডকে দুই বছর সময় নিয়ে সে নৌযান নির্মিত হয়েছিল। নাম রাখা হয়েছিল ‘আইল্যান্ড গার্ল’। দুটি নৌকা জোড়া দিয়ে তৈরি হয় এটি। আধুনিক সব সুযোগ–সুবিধা ছিল এতে। দুর্ঘটনার দিন গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরারটেক উপকূল থেকে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এডওয়ার্ড। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী বেলা (৩৬) ও দুই ছেলে আলবার্ট (১৬) ও রালফ (১৩)। কিন্তু কে জানত এই নৌকাই পরিবারটির ভয়ংকর বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

‘আইল্যান্ড গার্ল’ ডুবির পর তিন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়। তবে ভেসে যায় এক কিশোর

নৌকাটি দুই কিলোমিটার যাওয়ার পর মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে বড় ঢেউয়ের কবলে পড়ে। এক সময় ঢেউয়ের ধাক্কায় জোড়া নৌকা বিচ্ছিন্ন হয়ে সাগরে উল্টে ডুবে যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশে তখন বেশ কয়েকটি মাছ ধরার নৌকা ছিল। সেসব নৌযানের মাঝিরা এডওয়ার্ড, বেলা ও রালফকে উদ্ধার করেন। নিখোঁজ থাকে কিশোর ছেলে আলবার্ট। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরারটেকের কুতুববাজার সৈকতে আলবার্টের লাশ ভেসে আসে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়।

এডোয়ার্ডের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দুই ছেলের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য তাঁরা চারজন ‘আইল্যান্ড গার্ল’ এ করে সমুদ্রপথে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘটনার সময় এডওয়ার্ড ও তাঁর ছোট ছেলে রালফ নৌকার ডেকে বসা ছিলেন। আর তাঁর স্ত্রী বেলা ছাউনির নিচে বসে বড় ছেলে আলবার্টকে লাইফ জ্যাকেট পরাচ্ছিলেন। এই সময় বিকটশব্দে হঠাৎ নৌকাটি ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়। তাঁদের ধারণা, সে সময় আলবার্টের লাইফ জ্যাকেটের ক্লিপটি হয়তো ঠিকভাবে আটকানো হয়নি। তা ছাড়া আলবার্ট সাঁতার জানত না। সম্ভবত এ কারণে সে পানিতে ডুবে গেছে।

আইল্যান্ড গার্লে চট্টগ্রামের পথে

মহেশখালী চ্যানেলের সোনাদিয়ার কাছে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ যেখানে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেখানেই অন্য একটি নৌকায় ছিলেন মাসুদ নামের এক জেলে। তিনি বলেন, কাঠের নৌকাটি হঠাৎ তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে দুটি জোড়া নৌকা খুলে দুই ভাগ হয়ে সাগরে উল্টে যায়। তখন তিনজন বিদেশি পানিতে ভাসতে থাকেন। উদ্ধার তিনজনের পরনে লাইফ জ্যাকেট ছিল। নিখোঁজ কিশোরের পরনে সম্ভবত লাইফ জ্যাকেট ছিল না, এ কারণে সে ডুবে গেছে।

কক্সবাজার উপকূলে বেড়ানোর সময় ছবি তোলেন নিউজিল্যান্ডের পরিবারটি সদস্যরা

মঙ্গলবার বিকালে ডুবে যাওয়া নৌকাটি অন্য একটি ট্রলারের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে টেনে নাজিরারটেক উপকূলে আনা হয়। উদ্ধার নিউজিল্যান্ড নাগরিক এডওয়ার্ড ও তাঁর ছেলে রালফ পুলিশকে জানায়, দুই ছেলের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য তাঁরা চারজন ‘আইল্যান্ড গার্ল’ এ করে সমুদ্রপথে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘটনার সময় এডওয়ার্ড ও তাঁর ছোট ছেলে রালফ নৌকার ডেকে বসা ছিলেন। আর তাঁর স্ত্রী বেলা ছাউনির নিচে বসে বড় ছেলে আলবার্টকে লাইফ জ্যাকেট পরাচ্ছিলেন। এই সময় বিকট শব্দে হঠাৎ নৌকাটি ভেঙে দুই টুকরা হয়ে যায়। তাঁদের ধারণা, সে সময় আলবার্টের লাইফ জ্যাকেটের ক্লিপটি হয়তো ঠিকভাবে আটকানো হয়নি। তা ছাড়া আলবার্ট সাঁতার জানত না। সম্ভবত এ কারণে সে পানিতে ডুবে গেছে।

নিউজিল্যান্ডের কিশোর আলবার্টের মরদেহ ভেসে আসে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরারটেকের কুতুববাজার সৈকতে। গতকাল বিকালে

পুলিশ ও স্থানীয় জেলেরা জানান, প্রায় আড়াই বছর ধরে এডওয়ার্ড শহরের বাঁকখালী নদীর এসএমপাড়া এলাকায় নৌকাটি তৈরি করছিলেন। নির্মাণের পর কয়েকবার এটি নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজার, মহেশখালী ও সোনাদিয়া চ্যানেলে ভ্রমণ করেন।

নৌকা নির্মাণের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের বরাত দিয়ে এসএমপাড়ার বাসিন্দা দিদারুল ইসলাম বলেন, ডুবে যাওয়া নৌকাটি শহরের এসএমপাড়া ডকে নির্মাণ করা হয়েছিল। নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইল্যান্ড গার্ল। এটি আধুনিক নকশায় তৈরি। এতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ফ্রিজ, রান্নাঘরসহ বিভিন্ন সুবিধা ছিল। ব্যক্তিগত অ্যাডভেঞ্চার ও সমুদ্র ভ্রমণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি নৌকাটি নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল। এটি প্রায় সময় বাঁকখালী নদীতে, নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটির বিপরীত পাশে নোঙর করে রাখা হতো।