
কোথাও চলছে বলীখেলা, কোথাও বউছি। আবার কোথাও আয়োজন করা হয়েছে পুতুলনাচ। নাচ-গান-আবৃত্তি নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তো রয়েছেই। দিনভর এমন সব আয়োজনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যাপিত হয়েছে পয়লা বৈশাখ।
অনুষ্ঠানের শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান। শোভাযাত্রাটি জারুলতলায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে স্থাপিত বৈশাখী মঞ্চে চলে মূল অনুষ্ঠান।
বলীখেলার আয়োজন হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে। উন্মুক্ত মঞ্চে চলে পুতুলনাচ। শহীদ আবদুর রব হলের মাঠে কাবাডি খেলা এবং চাকসু প্রাঙ্গণে বউছি খেলার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া নববর্ষ উপলক্ষে বুদ্ধিজীবী চত্বর ও শহীদ মিনার চত্বরে সকাল থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনের উদ্যোক্তা মেলা।
নববর্ষ উপলক্ষে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারার প্রদর্শনীর আয়োজনও করা হয়। সেখানে স্থান পায় নাগরদোলা, পালকি, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, বায়োস্কোপসহ নানা কিছু।
মূল ক্যাম্পাসে ফেরার কারণে প্রায় দেড় দশক পর এবার বর্ষবরণের আয়োজনে চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। আলপনা আঁকা ও মোটিফ তৈরির মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে আরও বর্ণিল করে তোলেন তাঁরা।
দুপুরে ক্যাম্পাসে বর্ষবরণ প্রসঙ্গে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রাফসান হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পর ক্যাম্পাসে খুবই বর্ণিল এক উৎসব উপভোগ করেছি। প্রতিবছরই এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন হোক।’
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মূলমঞ্চে চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সমাপনী অনুষ্ঠানে সুন্দর আয়োজনে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান উপাচার্য।