
পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ, চারপাশে ঘন জঙ্গল। নেই কোনো সড়ক, নেই যানবাহনের সুবিধা। এমন দুর্গম পথে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি মাচায় প্রসববেদনায় কাতর এক নারীকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটেছেন গ্রামবাসী। আজ শনিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে এ চিত্র।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিওটি আজ সকালে রাঙামাটির বরকল উপজেলার আইমাছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভরতপাড়া এলাকা থেকে ধারণ করা হয়। ওই গ্রাম থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রসববেদনায় কাতর এক নারীকে জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসেন গ্রামবাসী। পাহাড়ি পথ দিয়ে হেঁটে হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। হাসপাতালে আনার পর ওই নারীর সন্তান প্রসব হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নবজাতক ও মা এখন সুস্থ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ২ মিনিট ৩ সেকেন্ডের। এতে দেখা যায়, প্রায় ১০ জন গ্রামবাসী বাঁশের তৈরি মাচায় শুইয়ে ওই নারীকে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে একজনকে কথা বলতেও দেখা যায়। তাঁর নাম সুমন জ্যোতি চাকমা। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা অত্যন্ত দুর্গম অঞ্চলে বাস করি। আজ একজন ডেলিভারি রোগীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছি। অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, এখানে রাস্তাই নেই। বাঁশের দোলায় (মাচা) করেই রোগীকে নিতে হচ্ছে।’
সন্তান প্রসব করা ওই নারীর নাম জেসিকা চাকমা (১৯)। তিনি ওই এলাকার সুমন চাকমার স্ত্রী। আজ এ দম্পতির প্রথম সন্তানের জন্ম হয়েছে। জানতে চাইলে সুমন চাকমা বলেন, গতকাল রাত ১০টার দিকে তাঁর স্ত্রীর প্রসবব্যথা শুরু হয়। এরপর তাঁরা স্থানীয়ভাবে প্রসবের চেষ্টা করছিলেন। তবে সম্ভব হয়নি। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সকাল সাতটার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে রওনা হন। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই তাঁর স্ত্রীর স্বাভাবিক প্রসব হয়।
আইমাছড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য শুভ মালা চাকমা বলেন, ভরতপাড়াসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা বেহাল। এ কারণে রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বর্ষা মৌসুমে অবস্থার আরও অবনতি হয়। জরুরি রোগী, প্রসূতি মা এমনকি মৃতদেহও অনেক সময় বাঁশের মাচা বা দোলায় বহন করতে হয়। এ ছাড়া কৃষিপণ্য আনা–নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।
জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অন্যান্য চাকমা বলেন, আজ সকালে আইমাছড়া ইউনিয়নের ভরতপাড়া থেকে এক প্রসূতিকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই তাঁর স্বাভাবিক প্রসব হয়। মা ও নবজাত মেয়েশিশু দুজনই এখন সুস্থ।