
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের (নান্দাইল, ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জ) মোট ভোটার ৫১৬ জন। তাঁদের মধ্যে ২৮০ জনকে ভোটের আগে ৫ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন মোছা. শিরিন সোলায়মান নামের এক প্রার্থী।
নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তিনি এখন ভোটারদের কাছে সেই টাকা ফেরত চাইছেন। জমি বিক্রি ও সুদে টাকা নিয়ে ভোটারদের দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
রোববার দুপুরে শিরিন সোলায়মানের সঙ্গে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি নান্দাইলের আচারগাঁও ইউনিয়নের ধরগাঁও নাখিরাজ গ্রামের বাসিন্দা। শিরিন ওই ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ছিলেন। গত নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন। এবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ৭৩ ভোট পেয়েছেন।
শিরিন সোলায়মান প্রথম আলোকে বলেন, নান্দাইল, ত্রিশাল ও ঈশ্বরগঞ্জ সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মধ্যে নান্দাইলে মোট ভোটার ১৮৫, ঈশ্বরগঞ্জে ১৫৯ ও ত্রিশালে ১৭২ জন। নান্দাইলে তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন না। তাই তিনি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় ভোটাররা তাঁকে বলেন, ‘টাকা ছাড়া খালি হাতে কিসের ভোট।’ তাই তিনি টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
শিরিন সোলায়মান আরও বলেন, নান্দাইলের ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে কোনো ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তাঁর কাছ থেকে টাকা নেননি। তবে কয়েকজন ইউপি সদস্য বাদে প্রায় সবাইকে তিনি পাঁচ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। নান্দাইল পৌরসভার এক নারী কাউন্সিলর তাঁর কাছ টাকা নিয়েছেন। নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ ও ত্রিশাল ওয়ার্ডের ২৮০ জন ভোটার ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নেন। কিন্তু নির্বাচনে তিনি নান্দাইলের ১৮৫ ভোটের মধ্যে ৭৩ ভোট, ঈশ্বরগঞ্জে ১৫৯ ভোটের মধ্যে ১৬ এবং ত্রিশালে ১৭২ ভোটের মধ্যে তিনি কোনো ভোট পাননি। অথচ ত্রিশালের কয়েকজন ভোটার তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। নির্বাচনে তাঁর ১৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনে হারার পর শিরিন সোলায়মান এখন সবাইকে টাকা ফেরত দেওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনজনের কাছ থেকে তিনি টাকা ফেরত পেয়েছেন। বাকিদের কাছ থেকে সেভাবে সাড়া পাচ্ছেন না। কাউকে ফোন করলে তাঁরা ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করছেন। কেউ কেউ ফোনও ধরছেন না। শিরিন বলেন, টাকা ফেরত না পেলে যাঁরা টাকা নিয়েছিলেন, তাঁদের নাম প্রকাশ করে দেবেন বলে চিন্তাভাবনা করছেন।
শিরিনের স্বামী মো. সোলায়মান বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে খরচের বিষয়টি তাঁরা মেনে নিতেন। কিন্তু টাকা নিয়ে ভোট না দেওয়ার বিষয়টা শুধু তাঁরা নন, গ্রামের কেউ মেনে নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবছেন তাঁরা। যাঁরা টাকা নিয়েছেন তাঁদের নামের তালিকা ও মুঠোফোন নম্বর তাঁদের কাছে আছে।
নির্বাচনে হারার পর শিরিন সোলায়মান এখন সবাইকে টাকা ফেরত দেওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনজনের কাছ থেকে তিনি টাকা ফেরত পেয়েছেন। বাকিদের কাছ থেকে সেভাবে সাড়া পাচ্ছেন না। কাউকে ফোন করলে তাঁরা ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করছেন। কেউ কেউ ফোনও ধরছেন না। শিরিন বলেন, টাকা ফেরত না পেলে যাঁরা টাকা নিয়েছিলেন, তাঁদের নাম প্রকাশ করে দেবেন বলে চিন্তাভাবনা করছেন।
শিরিনের স্বামী মো. সোলায়মান বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে খরচের বিষয়টি তাঁরা মেনে নিতেন। কিন্তু টাকা নিয়ে ভোট না দেওয়ার বিষয়টা শুধু তাঁরা নন, গ্রামের কেউ মেনে নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবছেন তাঁরা। যাঁরা টাকা নিয়েছেন তাঁদের নামের তালিকা ও মুঠোফোন নম্বর তাঁদের কাছে আছে।