সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া-শ্রীপুর এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ভাঙনে বেড়িবাঁধের অংশ ধসে পড়েছে। স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ সোমবার সকালে তোলা
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া-শ্রীপুর এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ভাঙনে বেড়িবাঁধের অংশ ধসে পড়েছে। স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ সোমবার সকালে তোলা

কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধে হঠাৎ ভাঙন, কোদাল–ঝুড়ি নিয়ে জড়ো হলেন গ্রামবাসী

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া-শ্রীপুর এলাকায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে বড় একটি অংশ ধসে নদীতে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় দেড় শ ফুট বাঁধ ধসে গেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রাথমিক হিসাবে ধসে পড়া অংশের দৈর্ঘ্য ৬০ থেকে ৭০ ফুট।

ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের শতাধিক বাসিন্দা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পাউবোর লোকজন আসার অপেক্ষা না করে তাঁরা কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে মাটি ফেলতে শুরু করেন। কেউ বালুভর্তি বস্তা ও জিও ব্যাগ নিয়ে ভাঙনস্থলে ছুটে যান।

কুড়িকাহুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান বলেন, ‘জোয়ারের পানি বাড়ার পর যখন আবার ভাটার টানে পানি নামবে, তখনই আসল ভয়। ভাঙন আরও বিস্তৃত হতে পারে। বাঁধটি ভেঙে গেলে শ্রীপুর, কুড়িকাহুনিয়া, সৃষ্টিনন্দ, প্রতাপনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হতে পারে।’

আমাদের চোখের সামনেই মাটির বড় বড় খণ্ড নদীতে পড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ ধসে যায়। এখন সরু আলের মতো বাঁধের সামান্য অংশ কোনোরকমে টিকে আছে।
মুজাহিদুল ইসলাম, স্থানীয় বাসিন্দা

স্থানীয় বাসিন্দা মুজাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনেই মাটির বড় বড় খণ্ড নদীতে পড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ ধসে যায়। এখন সরু আলের মতো বাঁধের সামান্য অংশ কোনোরকমে টিকে আছে।’

আজ সকাল নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ধসে যাওয়া অংশের পাশ থেকে তখনো মাটির খণ্ড নদীতে পড়ছে। বাঁধের এক পাশে কপোতাক্ষের পানি, অন্য পাশে জনবসতি ও বিস্তীর্ণ ধানখেত। জোয়ারের পানি বাড়তে থাকায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় বাঁধের ওপর অবস্থান করছেন স্থানীয় লোকজন। তাঁরা মাটি কেটে বস্তায় ভরে ভাঙনস্থলে ফেলছেন।

স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করা স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন আসা পর্যন্ত বসে না থেকে আমরা কাজ করছি। কিন্তু এত বড় ভাঙন শুধু স্থানীয় মানুষের শ্রম দিয়ে ঠেকানো সম্ভব নয়। দ্রুত জিও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় মালামাল এনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহর দাবি, তিন মাস আগেও এখান থেকে ১০০ থেকে ২০০ ফুট দূরে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। তখন পাউবোর ঠিকাদারের মাধ্যমে ১০০ থেকে ২০০ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। পরে স্থায়ীভাবে কাজ করার কথা বলা হলেও আর কাজ হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এই বাঁধের ঝুঁকি নতুন নয়। ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় বাঁধটি ভেঙে গিয়েছিল। পরে ২০২২-২৩ সালের দিকে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, তখন বাঁধের নিচের অংশে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহার করা হয়েছিল। জোয়ারের পানির চাপে ধীরে ধীরে বালু সরে গিয়ে ভাঙন তৈরি হয়েছে।

আমরা জায়গাটি নিয়মিত মনিটরিংয়ের (পর্যবেক্ষণে) মধ্যে রেখেছিলাম। তিন দিন আগেও সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে এসেছি। এর মধ্যেই আজ সকালে হঠাৎ করে বেড়িবাঁধের বেশ খানিকটা অংশ ধসে পড়েছে। ঘটনার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাশিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী

পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী বলেন, তাঁর ইউনিয়নের প্রায় তিন কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। বারবার ভাঙন দেখা দিলে জিও ব্যাগ, বালুসহ বিভিন্ন সামগ্রী ফেলে কোনোরকমে তা ঠেকানো হয়। এভাবে জোড়াতালি দিয়ে কাজ না করে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে মজবুত বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন।

সাতক্ষীরা পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা জায়গাটি নিয়মিত মনিটরিংয়ের (পর্যবেক্ষণে) মধ্যে রেখেছিলাম। তিন দিন আগেও সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে এসেছি। এর মধ্যেই আজ সকালে হঠাৎ করে বেড়িবাঁধের বেশ খানিকটা অংশ ধসে পড়েছে। ঘটনার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’