ফুলতলা উপজেলার আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের মশিয়ালী গ্রামে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকের বাড়িতে গতকাল শনিবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ ঘটনাস্থলে যান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের নেতারা
ফুলতলা উপজেলার আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের মশিয়ালী গ্রামে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকের বাড়িতে গতকাল শনিবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ ঘটনাস্থলে যান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের নেতারা

খুলনা-৫ আসন

জামায়াতের সমর্থকের বাড়িতে আগুন, অভিযোগ বিএনপির সমর্থকদের বিরুদ্ধে

খুলনা-৫ আসনে (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) ফুলতলা উপজেলার আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জি পাড়ায় দাঁড়িপাল্লার সমর্থক শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর একটি লাকড়ি রাখার ঘর পুড়ে গেছে।

শোকর আকুঞ্জির অভিযোগ, তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থক। ধানের শীষের সমর্থকেরা এলাকায় দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তাঁরাই এই আগুন দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে আগুন দেখতে পেয়ে তাঁরা ছুটে যান। পরে সবাই মিলে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির সৈয়দ হাসান মাহামুদ (টিটো) বলেন, আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার ভোটের মধ্যে ধানের শীষ পেয়েছে ৯ হাজার ৫৫ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ১৮ হাজার ৪৪২ ভোট। এই ইউনিয়নে ধানের শীষ কম ভোট পাওয়ায় এবং ধানের শীষকে বিজয়ী ঘোষণা করার পর থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের লোকেরা দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁরাই এ আগুন দিয়েছেন।

সৈয়দ হাসান মাহামুদ আরও বলেন, শোকর আকুঞ্জির বড় ছেলে রমজান আকুঞ্জি জামায়াতে ইসলামীর রুকন ও ইউনিট সভাপতি এবং ছোট ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ছাত্রশিবিরের মশিয়ালী ওয়ার্ড সভাপতি। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

ওই ঘটনার খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মইনুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকিরসহ দলীয় নেতারা আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসাইন মাসুম প্রথম আলোকে বলেন, রাতের অন্ধকারে কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা শনাক্ত করা যায়নি। স্থানীয়রা পুকুর থেকে পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। একটি লাকড়ি রাখার ঘরে ৩–৪ মণ কাঠ পুড়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি কেরোসিনের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ ডায়েরি করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সিআইডি আলামত সংগ্রহ করেছে।