কুয়াকাটা সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ কিশোরের লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বঙ্গোপসাগরে গোসল করতে নেমে মারা যায় মিয়া সামাদ সিদ্দিকী নামে এক কিশোর। তার মৃতদেহ উদ্ধার করার পর কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে ঢেউয়ের তোড়ে মিয়া সামাদ সিদ্দিকী (১৭) নামের এক কিশোর নিখোঁজ হওয়ার সোয়া তিন ঘণ্টা পর তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার বেলা দুইটার সময় কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট-সংলগ্ন সৈকতের পশ্চিম এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টার সময় কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে সামাদসহ পাঁচজন সাগরে গোসল করার জন্য নামে। সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় এবং মিয়া সামাদ সিদ্দিকী সাঁতার না জানায় ঢেউয়ের তোড়ে পানিতে ডুবে যায়। এ সময় সামাদের সঙ্গীরা ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে তীরে উঠলেও সামাদ আর উঠতে পারেনি।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শাহদাত হোসেন বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালাই। একপর্যায়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই।’

মিয়া সামাদ সিদ্দিকী খুলনার খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম এম ওয়াইজ উদ্দিন। তাঁরা খুলনা থেকে সাতজনের একটি দল বেড়ানোর জন্য সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটায় আসেন। তাঁরা গতকাল মঙ্গলবার কুয়াকাটায় এসে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন।

প্রত্যক্ষদর্শী হারুন অর রশিদ নামের একজন বলেন, ‘ছেলেটি পানিতে হাত উঁচিয়ে সাহায্য চাইছিল। আমরা দৌড়ে এগোনোর আগেই সে সাগরের পানিতে তলিয়ে যায়। সাগরও আজ প্রচণ্ড উত্তাল ছিল।’ নিখোঁজ সামাদের সঙ্গী সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে ঘুরতে এসে এভাবে একজনকে হারিয়ে ফেলব, ভাবতে পারিনি। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরে আমরা মর্মাহত।’

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে নৌ-পুলিশের সদস্যরা সেখানে গিয়েছিলেন। প্রথমে জেলেদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত করা হয়। একপর্যায়ে কলাপাড়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে ডেকে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের দলটি জেলেদের সহায়তায় নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। নিহত কিশোরের লাশ কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।