
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অফিস সহকারী উসমান সিকদার খুনের মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহিম খলিল, নিরাপত্তাকর্মী বাদল মজুমদার ও তাঁদের সহযোগী মো. আরিফ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পতেঙ্গা থানা-পুলিশ। জানতে চাইলে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, খুনের ঘটনায় বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনের দুই কর্মচারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আসামি ইব্রাহিম খলিল আজ শুক্রবার বিকেলে অতিরিক্ত চিফ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তিতে পুলিশ জানতে পারে, বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরবের মুদ্রা ৩৭ হাজার রিয়াল পাচার ও ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে উসমান সিকদারকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে খুন করা হয়।
বিমানবন্দরসংলগ্ন সরকারি কোয়ার্টারের বাসায় থাকতেন উসমান সিকদার। গত বুধবার রাত তিনটার দিকে তাঁকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবন্দরসংলগ্ন লিংক রোড থেকে উসমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই এমরান সিকদার বাদী হয়ে পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে গ্রেপ্তার দুই আসামি ইব্রাহিম খলিল, বাদল মজুমদার ও ফটিকছড়ির মো. রাসেল নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়ে, পূর্বের আর্থিক লেনদেনের জেরে খুন করা হয়েছে উসমান সিকদারকে।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে ইব্রাহিম খলিল বলেন, ফটিকছড়ির মো. রাসেল নামের এক ব্যক্তি উসমান সিকদারের সঙ্গে ৩৭ হাজার রিয়াল শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পাচার করানোর চুক্তি করে। কিন্তু পরে উসমান রাসেলকে জানান, রিয়ালগুলো বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা তাঁর কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছেন। রাসেলের কথামতো বিমানবন্দরের অভিবাসন পার হওয়া যাত্রীর হাতে তুলে দিতে পারেননি। বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনের ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহিম খলিলসহ অন্যরা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেন। এদিকে রাসেল তাঁর রিয়ালের জন্য চাপ দিতে থাকেন। তখন উসমান রিয়ালগুলো ভাগ-বাঁটোয়ারায় কারা কারা জড়িত তা বলে দেবেন বলে হুমকি দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যান বিমানবন্দরের জড়িত কর্মচারীরা। পরে তাঁরা বাসা থেকে তুলে নিয়ে উসমানকে খুন করেন।
মামলার বাদী ও নিহতের ভাই এমরান সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ফটিকছড়ির রাসেল তাঁর ভাইকে হুমকি ও চাপ দেওয়ায় তাঁর কথামতো ৩৭ হাজার রিয়াল বাবদ ৯ লাখ টাকা দিয়ে দিয়েছেন। এরপরও প্রাণে বাঁচতে দেননি তাঁর ভাইকে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি চান তিনি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর আজ প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার তদন্তে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা কাজ করছে। তবে যে বা যারা জড়িত থাকুক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।