
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে নতুন বাংলা বছরকে বরণ করছে সিলেটবাসী। নগরের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর চলছে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির আয়োজন। নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে সর্বত্র।
সকাল আটটায় নগরের সুবিদবাজার এলাকার ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শ্রুতি’র বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়। উদ্বোধন করেন প্রবীণ বাউলশিল্পী আবদুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এ অঞ্চলের মানুষও সেই সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। এ সময় তিনি সিলেটে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান।
উদ্বোধনী পর্বে আবৃত্তিশিল্পী মোকাদ্দেস বাবুল, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো এবং সংগীতশিল্পী অনিমেষ বিজয় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। শ্রুতির পক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন সুকান্ত গুপ্ত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুমন্ত গুপ্ত। ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেলা সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। দিনভর অন্তত ২০টি সংগঠন দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেবে। পাশাপাশি ১৫ জন নবীন ও প্রবীণ শিল্পী একক পরিবেশনা করবেন। বিকেলে লোকসংগীতশিল্পী শ্যামল কুমার পালকে সম্মাননা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে সকালেই কেওয়াপাড়া এলাকার শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজে ‘আনন্দলোক সিলেট’-এর উদ্যোগে আরেকটি বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন করেন সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বেলা দুইটা পর্যন্ত চলা এ অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত ও নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেয় একাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। পাশাপাশি নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের একক পরিবেশনাও রয়েছে।
সকাল সাড়ে আটটায় সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ বের হয়। নগর ভবন থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রার আগে প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব বয়সী মানুষের জন্য বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে নতুন পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দুপুরে নবাবরোড এলাকার আল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে জাতীয় কবিতা পরিষদ সিলেট বিভাগীয় শাখার উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে আলোচনা সভা, আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশিত হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিকেল চারটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলবে।
এ ছাড়া চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে চৌহাট্টা এলাকার ভোলানন্দ নৈশ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলছে। বেলা পাঁচটা পর্যন্ত এ আয়োজন চলার কথা রয়েছে। এর বাইরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করা হচ্ছে।