সম্মেলনের এক বছর পর পাবনা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি, দলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আওয়ামী লীগ
আওয়ামী লীগ

ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের এক বছর পর পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ৯৩ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। গত রোববার দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই কমিটির অনুমোদন দেন।

নবগঠিত কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি গতকাল সোমবার রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অবগত হন। এর পর থেকেই দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেকেই নতুন কমিটিকে গ্রহণ করলেও কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক নবগঠিত এই কমিটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

জানতে চাইলে গোলাম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি। জেষ্ঠ্য নেতাদের পদ নিচে নামিয়ে কনিষ্ঠদের বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে দলের মধ্যে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আমরা খুব বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি।’

প্রায় সাত বছর পর গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সর্বশেষ বিলুপ্ত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিমকেই সভাপতি এবং সংসদ সদস্য গোলাম ফারুককে পুণরায় সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পাবনা পুলিশ লাইনস মাঠে দিনব্যাপী সম্মেলন শেষে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান এ ঘোষণা দেন।

নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে খন্দকার জাহাঙ্গীর কবির, রবিউল আলম, মোহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক সংসদ সদস্য পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, আবদুল মতিন খানসহ মোট ২৫ জনকে উপদেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনকে জেষ্ঠ্য সহসভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম আবদুর রহিম, সাখাওয়াত হোসেন, বেলায়েত আলী, চন্দন কুমার চক্রবর্তীসহ ১০ জনকে সহসভাপতি, পাবনা পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল হাসান, সাবেক দপ্তর সম্পাদক আবদুল আহাদ ও কেন্দ্রীয় সাবেক নেতা কামরুজ্জামানকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে।

নবগঠিত কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রধান বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় যে কমিটি অনুমোদিত হয়েছে, তা সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি। নবগঠিত এই কমিটি অনুমোদনের জন্য আমি জননেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউর রহিম বলেন, ‘কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো হাতে পাইনি। তাই কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর ১৩ মাস পর ৯৩ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।