গত সপ্তাহে অতিভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সড়ক
গত সপ্তাহে অতিভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সড়ক

বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ, আজ থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রামের আকাশে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছিল। কখনো রোদ, কখনো মেঘ। তবে সেই বিরতি দীর্ঘ হচ্ছে না। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর গড়াতেই আবার মেঘ জমতে শুরু করেছে। হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি আকাশে আছে কালো মেঘের আনাগোনা। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, আজ থেকেই আবার বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস বলছে, চট্টগ্রামে আগামী কয়েক দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণও হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে নতুন করে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আজ থেকে আবার বৃষ্টি বাড়তে পারে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রে আবার একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমি বায়ুও সক্রিয় রয়েছে। তাই কয়েক দিন বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে।

আজ প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও একই চিত্র উঠে এসেছে। তারা জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণও। আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

চট্টগ্রামের মানুষের কাছে টানা বৃষ্টির অভিজ্ঞতা এখনো তাজা। গত সপ্তাহে অতি ভারী বর্ষণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমেছিল। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনুরোধ করেছিল জেলা প্রশাসন।

এরপর ৭ জুলাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় শুরু হয় বন্যা পরিস্থিতি। গ্রামের পর গ্রাম ডুবে যায় বন্যার ঢলে। ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন কয়েক লাখ মানুষ। তবে কয়েক দিনে বন্যার পানি নামতে শুরু করে।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির মধ্যে এক-দুই দিনের বিরতি স্বাভাবিক। তবে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকলে সেই বিরতি শেষে আবার বৃষ্টি শুরু হয়। এবারও তেমনটাই হচ্ছে। তাই পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বসবাসকারী এবং নিচু এলাকার মানুষকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখতে হবে।