
মুদিদোকানি রফিকুল ইসলাম মৃধা ও নাদিরা বেগম দম্পতির দুই সন্তান। বড় মেয়ের নাম নদী আখতার ও ছোট ছেলের নাম নাফিউস ফুয়াদ। ২০২১ সালে জয়পুরহাট সরকারি রামদেও বাজলা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ফুয়াদ। ক্ষেতলাল কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সে। ছেলেকে ঘিরে মা-বাবার অনেক স্বপ্ন ছিল। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ক্ষেতলাল পৌর শহরের মালিপাড়ায় ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা–বাবার সেই স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে।
ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে অটোরিকশার চালকসহ যে পাঁচজন নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্য নাফিউস ফুয়াদও আছে। ক্ষেতলাল পৌর শহরের শাখারুঞ্জ চৌধুরীপাড়া গ্রামে নাফিউস ফুয়াদের বাড়ি। তার অকালমৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে ফুয়াদদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে ফুয়াদের মা নাদিরা বেগম ও বাবা রফিকুল ইসলাম বিলাপ করছিলেন। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁদের বারবার সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিলাপ করতে করতে নাদিরা বেগম বলছিলেন, ‘আজকে সকাল ১০টায় আমাকে কল দিয়ে বলল, মা আমি বাড়িতে যাচ্ছি। তুমি কোনো চিন্তা করো না। ফোন দেওয়ার এক ঘণ্টা পর শুনলাম আমার বুকের মানিক অ্যাকসিডেন্ট করছে।’
ফুয়াদের বাবা রফিকুল ইসলাম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘হামার ছল অনেক শান্ত। সে একটি টাকাও বেশি নিত না। ওকে নিয়ে হামার অনেক স্বপ্ন ছিল। আজ হামার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। এখন কার জন্য দোকান করমু।’
ফুয়াদের বড় বোন নদী আখতার বলেন, ‘জয়পুরহাটে কোচিং করত, সেখানে থাকত। সে প্রায় ১৫ দিন পর আজকে বাড়িতে আসছিল। নাফিস বাড়িতে এসে তার স্মার্টফোন আমাকে দিয়ে আমার বাটন ফোন নিয়ে যেতে চেয়েছিল। সেই সুযোগ আর পেল না।’
নাফিউস ফুয়াদের বন্ধু রানা হোসেন বলেন, ‘নাফিউস অনেক ভালো ছেলে। সে আমাদের ছেড়ে এভাবে চলে যাবে, তা ভাবতে পারছি না। পরিবার নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখত সে।’
নাফিউস গ্রামের কারও সঙ্গে কোনো দিন খারাপ আচরণ করেনি বলে মন্তব্য করেন গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশার চালকসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত পাঁচজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড আপস) ফারজানা হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওই স্থানে কোনো মোড় নেই, আবার কুয়াশাও ছিল না। ট্রাকচালক নাকি অটোরিকশাচালক কার দোষ ছিল, সেটি খুঁজে দেখা হচ্ছে। ট্রাকচালক ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছেন।