লাশ
লাশ

খাবার খায়নি দেখে মায়ের সন্দেহ, পরে পুকুরে মিলল দুই সন্তানের লাশ

পঞ্চগড়ে পানিতে ডুবে দুই ভাই–বোনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের কেকুপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা হলো মো. আসিফ (১০) ও সাথী আক্তার (৭)।

মারা যাওয়া শিশু দুজন কেকুপাড়া এলাকার প্রয়াত সফিকুল ইসলামের ছেলে–মেয়ে। আসিফ স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নুরানি শাখার শিক্ষার্থী ছিল। সাথী আক্তার পড়ত স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণিতে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির বাবা প্রায় আট মাস আগে অসুস্থতার কারণে মারা যান। তাঁদের বড় দুই ভাই ঢাকায় পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। মা আছিয়া বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন এবং স্থানীয় একটি টমেটোর আড়তে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।

চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালেও আছিয়া বেগম সন্তানদের জন্য ভাত রান্না করে কাজে যান। দুপুরে খাবারের বিরতিতে বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন, ছেলে–মেয়েরা ভাত খায়নি। হয়তো খেলতে গেছে—ভেবে তিনি আবার কাজে চলে যান। বিকেলে কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে দেখেন, রান্না করা ভাত যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন, সেভাবেই আছে। এরপর সন্তানদের খুঁজতে শুরু করেন এবং আশপাশের লোকজনকে জানান।

স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে একটি স্যান্ডেল দেখতে পান। এতে সন্দেহ হলে কয়েকজন পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পানির নিচ থেকে প্রথমে আসিফ ও পরে সাথীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মোজাম্মেল হক বলেন, মাত্র চার শতাংশের ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছুই নেই আছিয়াদের। স্বামীর মৃত্যুর পর নিজে কাজ করে অনেক কষ্টে ছেলেমেয়েকে নিয়ে সংসার চালান তিনি।

স্বজনদের ধারণা, খেলতে গিয়ে একজন পানিতে পড়ে গেলে অন্যজন তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে দুজনই ডুবে গেছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।