বাড়ির উঠানে খাটিয়াতে পাশাপাশি রাখা হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চাচা–ভাতিজার লাশ। কুমিল্লার দাউদকান্দির সরকারপুরে
বাড়ির উঠানে খাটিয়াতে পাশাপাশি রাখা হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চাচা–ভাতিজার লাশ। কুমিল্লার দাউদকান্দির সরকারপুরে

মেলা থেকে ফেরার পথে অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, চাচা-ভাতিজা নিহত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় কারি কেরামত আলী মাজারের কাছে গাড়ির ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চারজন। আজ বুধবার ভোর পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা সম্পর্কে চাচা–ভাতিজা। তাঁরা চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেলা থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন।

নিহত দুজন হলেন উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের সরকারপুর গ্রামের আবদুল বারেক (৫৩) ও তাঁর ভাতিজা মো. মোস্তফা (৫২)। দুজনই পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। আহত ব্যক্তিরা হলেন নিহত আবদুল বারেকের ভাতিজা নবীর হোসেন (৪৩), ইসমাইল হোসেন (৪১), চাচাতো ভাই কাউসার মিয়া (৪৪), সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক উপজেলার কদমতলী গ্রামের সাগর মিয়া (৩৫)।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা হতাহত ব্যক্তিদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুজনের লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছেন স্বজনেরা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. রিয়াদ মাহমুদ।

নিহত আবদুল বারেকের আরেক ভাতিজা রিফাত হোসেন জানান, একই পরিবারের পাঁচজন গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুরে ‘লেংটার মেলা’ ও ওরসে যান। সেখান থেকে ভোররাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়িতে ফিরছিলেন তাঁরা। পথে একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দিলে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রাবেক ও মোস্তফা। আহত হন অটোরিকশার চালকসহ চারজন। দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চট্টগ্রামগামী ট্রাকটি।

সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চাচা–ভাতিজা নিহতের খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মোস্তফার স্ত্রী নার্গিস আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, তাঁর স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ায় একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত আবদুল বারেকের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বলেন, তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তাঁর স্বামী। স্বামীর মৃত্যুতে দুই সন্তানের মুখে কীভাবে দুমুঠো খাবার তুলে দেবেন, সে উপায়ও নেই।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদারের অনুমতিক্রমে স্বজনেরা নিহত দুজনের লাশ নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার।