মাত্র ২ মাস ১৯ দিন। দুধের শিশুটি শেষ কয় দিন কী সীমাহীন কষ্ট ভোগ করেছে, তা ভাবতেই মায়ের বুক ফেটে যাচ্ছে। এত চেষ্টার পরও ডেঙ্গু আক্রান্ত আড়াই মাসের মাইশা আকতারকে বাঁচাতে না পারার যন্ত্রণায় দগ্ধ হচ্ছেন মা কুলসুম আকতার।
বোয়ালখালীর জ্যেষ্ঠপুরা গ্রামের এমদাদুল ইসলাম ও কুলসুমা আকতারের মেয়ে মাইশা। দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে মাইশা ছোট। গ্রামেই থাকেন তাঁরা। মধ্যবিত্ত সংসারে হানা দেয় ডেঙ্গু। পরিবারের ছোট সদস্যটিকে পেয়ে বসে ডেঙ্গু জ্বরে।
কুলসুম আকতার বলেন, ‘প্রথম দিকে মেয়েটির অল্প অল্প জ্বর ছিল। আর কারও কিছু হয়নি। এর পর স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে তাকে চিকিৎসা করিয়েছি। পরে অবস্থা খারাপ হলে চান্দগাঁও এলাকার একটা হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চার দিন আইসিইউতে ছিল। পরে মেডিকেলে নিয়ে যাই।’
২৫ অক্টোবর মেয়েটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে আরও চার দিন ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করে মেয়েটি। কিন্তু চেষ্টা করেও সেখানে আইসিইউ জোগাড় করতে পারেননি বাবা মা। পরে রোববার সকালে মারা যায় মাইশা।
এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছোট একটা চা–দোকান করি বাড়ির পাশে। টাকাপয়সা নেই। তাই বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ থেকে নামিয়ে মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখানে আইসিইউ পাইনি। চেষ্টা করেছি আইসিইউয়ের জন্য। কিন্তু সবগুলোতে রোগী ভর্তি ছিল। তাই সাধারণ শয্যায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মেয়েটি অনেক কষ্ট পেয়েছে।’
এমদাদুল বলেন, শেষ দিকে মেয়েটির শরীরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। এভাবে একসময় নিঃশেষ হয়ে যায় মাইশা।
মাইশাকে নিয়ে প্রায় ১০ দিন হাসপাতালে কাটিয়েছেন এমদাদুল ইসলাম ও কুলসুম আকতার। অপর দুই ছেলেমেয়ে তখন বাড়িতে দাদির কাছে ছিল। রোববার নিথর মাইশাকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন এই দম্পতি। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে চিরঘুমে শুইয়ে দেওয়া হয়।
মেয়ের এ পর্যন্ত চিকিৎসা করাতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ধারদেনাও হয়েছে। তারপরও মেয়েটিকে বাঁচাতে না পারার দুঃখ রয়েছে তাঁদের। এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে চিকিৎসা করিয়েছি মেয়ের। কিন্তু পারলাম না। হয়তো অল্প কয় দিনের আয়ু নিয়ে আমার মেয়েটি দুনিয়াতে এসেছিল। আল্লাহর হুকুমে চলে গেছে।’
এ নিয়ে চট্টগ্রামে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৮৬ জনে। এর মধ্যে শিশু ৩১। চট্টগ্রামে এ বছর মোট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ৩৭৬ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২০৫ জন চিকিৎসাধীন।