
মুন্সিগঞ্জ শহরের একটি আবাসিক ভবনে সদ্য নির্মিত সেপটিক ট্যাংক থেকে তিন নির্মাণশ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশগুলো উদ্ধার করেন। তাঁরা বলেন, সেপটিক ট্যাংকে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের বিষক্রিয়ায় ওই শ্রমিকেরা মারা গেছেন।
মৃত শ্রমিকেরা হলেন পঞ্চগড়ের মো. শাহিন ইসলাম (২৮), গাইবান্ধার ফিরোজ ইসলাম (১৮) ও বগুড়ার মো. ইব্রাহীম (২৫)। তাঁরা সবাই নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে শহরের খালইস্ট এলাকায় পাশাপাশি দুটি বহুতল ভবনে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। বেলা তিনটার দিকে সবুজ গাজী নামের এক ব্যক্তির ভবনে মানুষের চিৎকার শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর লোকজন ছুটে এসে দেখেন, ওই ভবনের সদ্য নির্মিত সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে তিন শ্রমিক পড়ে আছেন।
ঘটনার সময় পাশের ভবনে কাজ করছিলেন শ্রমিক মো. সোহাগ। তিনি বলেন, দুপুরে খাওয়ার পর তাঁদের পাশের ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিংয়ের বাঁশ-কাঠ খোলার জন্য ইব্রাহিম ও ফিরোজ নিচে নামেন। সেখানে নামার কিছুক্ষণ পর তাঁদের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। অন্য শ্রমিকেরা দেখতে পান, ইব্রাহিম ও ফিরোজ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছেন। এ খবর পেয়ে তাঁরা দৌড়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা শাহিন তাঁদের উদ্ধার করতে ওই সেপটিক ট্যাংকে নামেন। কিন্তু শাহিনও জ্ঞান হারান। পরে তাঁদের ডাক–চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও পুলিশের সদস্যরা ছুটে আসেন। বিকেল চারটার দিকে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের চারটি ইউনিটের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আধা ঘণ্টার বেশি সময় চেষ্টা চালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ওই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই তিন শ্রমিক কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন। পরে তাঁরা অক্সিজেনের অভাবে মারা যান।
এ দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা বলেন, নতুন ভবনের এসব ট্যাংকের মুখ বন্ধ থাকায় গ্যাস জমা থাকে। তাই যেকোনো সেপটিক ট্যাংক থেকে বাঁশ-কাঠ অপসারণ করতে হলে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে মুখ খুলে রাখতে হয়। ওই শ্রমিকেরা ট্যাংকের মুখ খুলে সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন।
মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির প্রথম আলোকে জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।