চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনার্থীদের ছিনতাই ও হেনস্তা, দুই রিকশাচালক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরতে এসে ছিনতাই ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন একদল দর্শনার্থী। আজ বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

আজ বিকেল চারটার দিকে দক্ষিণ ক্যাম্পাসের একটি নির্জন স্থানে দর্শনার্থীরা এ ঘটনার শিকার হন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই সহোদর রিকশাচালক মো. লোকমান আলী (৩২) ও মো. রাশেদ (৩০)–কে আটক করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, হাটহাজারী এলাকা থেকে চার তরুণ ও তিন তরুণী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট থেকে গোলচত্বর এলাকায় যাওয়ার জন্য লোকমান আলীর রিকশায় ওঠেন। তবে নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে কৌশলে তাঁদের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছে লোকমান আলী তাঁর ভাই রাশেদকে ডেকে আনেন। এরপর দুই ভাই মিলে দর্শনার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁদের মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন এবং সঙ্গে থাকা তরুণীদের হেনস্তা করেন। একপর্যায়ে দর্শনার্থীদের আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগী এক তরুণ (১৮) ও এক কিশোর (১৬) জানায়, রিকশায় ওঠার পর গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে রিকশাচালকের সঙ্গে তাঁদের কথা–কাটাকাটি হয়। পরে তাঁদের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নিয়ে গিয়ে রিকশাচালক তাঁর ভাইকে ডেকে এনে জোরপূর্বক মুঠোফোন ও টাকা নিয়ে নেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

অভিযুক্ত রিকশাচালক মো. লোকমান আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রিকশায় ওঠার পর যাত্রীরা অশালীন আচরণ করছিলেন। তাঁর দাবি, পরিবারকে বিষয়টি জানাতে তাঁদের মুঠোফোন নিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী মো. দিদারুল ইসলাম ও মো. সুমন বলেন, টহলের সময় কাটা পাহাড় এলাকায় দর্শনার্থীদের সঙ্গে দুই রিকশাচালকের বাগ্‌বিতণ্ডা দেখতে পান তাঁরা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হস্তক্ষেপ করলে অভিযুক্ত রিকশাচালকেরা তাঁদের হুমকি দেন। পরে কৌশলে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, আজ দর্শনার্থীরা ঘুরতে এসে দুই রিকশাচালকের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের একটি চক্রের কারণে অতীতেও দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছিলাম।’

প্রক্টর আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তর বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। দুজনকে হাটহাজারী থানায় পাঠানো হয়েছে।

হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্তদের থানায় আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আগামীকাল সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে।